স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করেছিলেন স্বামী। সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নতুন জীবনও ফিরে পান স্ত্রী। কিন্তু কয়েক বছর পর ভেঙে যায় তাদের দাম্পত্য।
এরপর বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় স্বামী এমন এক দাবি তোলেন, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তিনি আদালতের কাছে দাবি করেন, স্ত্রীকে দেওয়া কিডনি ফেরত দিতে হবে, তা সম্ভব না হলে দিতে হবে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ।
ঘটনাটি ২০০১ সালের। যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডের শল্যচিকিৎসক রিচার্ড বাতিস্তার স্ত্রী ডনেলের আগের দুটি কিডনি প্রতিস্থাপনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। চিকিৎসার সুযোগও ক্রমশ সীমিত হয়ে আসছিল। এমন পরিস্থিতিতে স্ত্রীকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করেন রিচার্ড। অস্ত্রোপচার সফল হয় এবং ডনেল সুস্থ জীবন ফিরে পান।
তবে কয়েক বছর পর তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে ভাঙন ধরে। একপর্যায়ে শুরু হয় বিবাহবিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া। সেই মামলাতেই রিচার্ড দাবি করেন, স্ত্রীর শরীরে প্রতিস্থাপিত কিডনি তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে। তা সম্ভব না হলে ওই কিডনির পরিবর্তে ১৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
রিচার্ডের যুক্তি ছিল, স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে তিনি নিজের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ দান করেছেন। তাই বিবাহবিচ্ছেদের আর্থিক নিষ্পত্তির সময় তার এই ত্যাগের মূল্য বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তবে আদালত তার এই দাবি নাকচ করে দেন।
আদালত বলেন, আইন ও চিকিৎসা নৈতিকতা অনুযায়ী বৈধভাবে দান করা এবং অন্যের শরীরে প্রতিস্থাপিত কোনো অঙ্গ আর দাতার সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হয় না। প্রতিস্থাপনের পর সেটি স্থায়ীভাবে গ্রহীতার শরীরের অংশ হয়ে যায়।
এ ছাড়া মানবদেহের অঙ্গের আর্থিক মূল্য নির্ধারণও আইন ও চিকিৎসা নৈতিকতার পরিপন্থী। ফলে কিডনি ফেরত দেওয়া কিংবা এর বিনিময়ে ১৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের দাবি—দুটিই আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে আদালত রায় দেন। শেষ পর্যন্ত ডনেলের শরীরেই কিডনিটি থেকে যায় এবং রিচার্ডের ক্ষতিপূরণের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়।

