স্পেনের কাছে সেমিফাইনালে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই রাজধানী প্যারিস ও লিওঁসহ কয়েকটি এলাকায় সমর্থকদের একটি অংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬০ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা দেখা যায় প্যারিসে। সেখান থেকে ১৪১ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, আটক হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিরাপত্তাকর্মী ও জরুরি সেবার সদস্যদের লক্ষ্য করে আতশবাজির মর্টার এবং অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে।
লিওঁ শহরেও ম্যাচ শেষে একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্লাস বেলকুর চত্বরে বড় পর্দায় শত শত ফুটবলপ্রেমী সেমিফাইনাল উপভোগ করেন। খেলা শেষ হওয়ার পরও অনেক সমর্থক সেখানে অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে কয়েকটি ছোট দল নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের সহায়তা নেয়। পরে যৌথ অভিযানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং প্রায় ২০ জনকে আটক করা হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আটক হওয়া ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ তরুণ। তাদের বেশির ভাগের জন্ম ২০০২ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে।
তবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও স্বস্তির খবর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত সংঘর্ষে কোনো গুরুতর আহতের ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে সরকারি বা বেসরকারি সম্পদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্সে বড় ক্রীড়া আসরকে কেন্দ্র করে জনসমাগমের পর বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা নতুন নয়। তবে এবারের বিশ্বকাপে বিদায়ের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
স্পেনের বিপক্ষে হারের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন শেষ হলেও, ম্যাচ-পরবর্তী সহিংসতা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রয়োজন হলে আরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথাও জানিয়েছে তারা।

