মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, চলমান সংঘাতে ইরান খুব শিগগিরই পরাজয়ের মুখে পড়বে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তেহরান এখন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে আগ্রহী। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাবে সাড়া দেবে কি না, সে বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে চাননি তিনি।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ জুলাই) দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার ভাষ্য, যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইরান পরাজিত হবে।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান এখন সমঝোতায় আগ্রহী। তবে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে, তা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আগে সমঝোতার ইঙ্গিত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানের তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপকে ভবিষ্যতে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে কি না—এ প্রশ্নে তিনি স্পষ্টভাবে সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি।
তার ভাষায়, যদি প্রয়োজন হয় এবং ইরানের সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করা সম্ভব হয়, তাহলে সে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতির পাশাপাশি কূটনৈতিক অঙ্গনেও পাল্টাপাল্টি অবস্থান ক্রমেই কঠোর হচ্ছে। এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।
তবে ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে আলোচনার সম্ভাবনা, যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এবং দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপ—সবকিছুই এখন আন্তর্জাতিক মহলের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

