মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। ধারাবাহিক পালটা অভিযানের মধ্যেই ইরান দাবি করেছে, বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে আবারও হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ চালকবিহীন ড্রোন ভূপাতিত করার কথাও জানিয়েছে তেহরান।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক কোনো স্বাধীন সূত্র থেকেও আইআরজিসির এই দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আন্দিমেশক শহরের আকাশে একটি ‘শত্রু’ এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত করার পর সেটিকে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়। আইআরজিসির দাবি, তাদের মহাকাশ বাহিনীর নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেই ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়েছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
এদিকে ইরাকের কুর্দি নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট উত্তরাঞ্চলের কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী এরবিলের আকাশে বিস্ফোরকবোঝাই আটটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন দূতাবাসের আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আকাশে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পালটা হামলার এই ধারা অব্যাহত থাকলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানের প্রতিক্রিয়ামূলক অভিযানের কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, নৌপথের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও এর প্রভাব আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

