মিয়ানমারের উপকূলে দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গার মৃত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় এই মানবিক বিপর্যয়ে নিখোঁজদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে যাত্রা করা কিছু মানুষও ছিলেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা জানায়, জুন মাসের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে দুটি নৌকা যাত্রা শুরু করেছিল। নিরাপদ আশ্রয় ও উন্নত জীবনের আশায় যাত্রা করা এসব মানুষের বেশির ভাগই ছিলেন রোহিঙ্গা।
জাতিসংঘের দুটি সংস্থা জানিয়েছে, নৌকাডুবির ঘটনা এবং হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা আশঙ্কা করছে, নৌকায় থাকা অধিকাংশ যাত্রীই প্রাণ হারিয়ে থাকতে পারেন। যদি এই আশঙ্কা সত্যি হয়, তাহলে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে ভয়াবহ রোহিঙ্গা নৌদুর্ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, নিরাপত্তাহীনতা, সহিংসতা, দারিদ্র্য এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে এখনো অনেক রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে অন্য দেশে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্য এবং বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে অনেকেই দালালচক্রের মাধ্যমে বিপজ্জনক নৌযাত্রায় অংশ নিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি নৌদুর্ঘটনা নয়; এটি রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘস্থায়ী মানবিক বাস্তবতারও প্রতিফলন। নিরাপদ ও টেকসই সমাধানের অভাব, সীমিত কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চলাচলের সুযোগ না থাকায় বহু মানুষ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের সন্ধান, সম্ভাব্য জীবিতদের উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

