যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ সেনাসদস্যদের স্বাস্থ্য ও যুদ্ধক্ষেত্রে কর্মক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে নতুন একটি কর্মসূচি চালু করেছে। এই উদ্যোগের আওতায় ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী সক্রিয় ও রিজার্ভ সেনাসদস্যদের বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পরীক্ষা করা হবে।
বুধবার (১৬ জুলাই) প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের জন্য সেনাদের সর্বোচ্চ শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তার মতে, শরীরে টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় থাকলে সেনাসদস্যরা আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব সেনাসদস্যের শরীরে টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি ধরা পড়বে, তারা চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শে স্বেচ্ছাভিত্তিতে হরমোন প্রতিস্থাপন চিকিৎসা নিতে পারবেন। তবে ৩০ বছরের কম বয়সী সদস্যদের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়; তারা চাইলে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল জানিয়েছেন, নির্দেশনাটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। তার ভাষ্য, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা বিভাগ সেনাসদস্যদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত একটি বিস্তৃত তথ্যভান্ডার তৈরি করতে পারবে। এর ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি সুস্থ ও কার্যকর সামরিক বাহিনী গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
তবে এই নীতিমালা নারী সেনাসদস্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে কি না, কিংবা বয়সজনিত হরমোন পরিবর্তনের জন্য তাদের কোনো বিশেষ চিকিৎসা দেওয়া হবে কি না—সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি পেন্টাগন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর এবং ইরাক যুদ্ধের সাবেক সেনাসদস্য ট্যামি ডাকওর্থ নারী ও পুরুষ—উভয় সেনাসদস্যের জন্য সমানভাবে হরমোন পরীক্ষা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে কংগ্রেস সদস্য ক্রিসি হুলাহান এই উদ্যোগকে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেক পুরুষের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যেতে পারে। এতে পেশিশক্তি, কর্মক্ষমতা, মানসিক উদ্যম এবং হাড়ের শক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব পরিবর্তন কার্যক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বেইলর মেডিকেল কলেজের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহিত খেরা বলেন, ৩০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে শুধু পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে নয়, রোগীর উপসর্গ ও সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করেই চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, হরমোন প্রতিস্থাপন চিকিৎসা সবার জন্য উপযোগী নয়। অপ্রয়োজনীয়ভাবে টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করলে তরুণদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে হৃদ্রোগসহ অন্যান্য জটিলতার আশঙ্কাও বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের চিকিৎসা গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে টেস্টোস্টেরনভিত্তিক চিকিৎসা সহজলভ্য করার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র এই চিকিৎসা আরও সহজ করার পক্ষে মত দিয়েছেন। একই সঙ্গে খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন টেস্টোস্টেরন চিকিৎসাসংক্রান্ত কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়েও কাজ করছে।

