পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এখনই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো চিন্তা করছেন না। বরং বিজেপির শাসনের অবসান না দেখা পর্যন্ত তিনি রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যেতে চান বলে মন্তব্য করেছেন।
সম্প্রতি দলীয় সংকট, বিদ্রোহ এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মমতা নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। সেখানে তিনি বলেন, বয়স নয়, একজন মানুষের মনোবল, শারীরিক সক্ষমতা এবং মানসিক শক্তিই আসল বিষয়। তাই বয়স নিয়ে তাকে আক্রমণ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
মমতা অভিযোগ করেন, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা চেয়েছিল তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ুন। তবে তিনি দাবি করেন, সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই তিনি আবারও ঘুরে দাঁড়াবেন এবং বিজেপির পতন না দেখা পর্যন্ত রাজনীতির ময়দান ছাড়বেন না।
তিনি আরও বলেন, অতীতেও একাধিকবার শূন্য থেকে রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলতে হয়েছে তাকে। ১৯৯৭ এবং ২০০৪ সালের মতো এবারও প্রয়োজন হলে নতুন করে দলকে সংগঠিত করবেন। যারা দল ছেড়ে যেতে চান, তারা যেতে পারেন। কিন্তু যারা পাশে থাকবেন, তাদের নিয়েই নতুন শক্তি গড়ে তোলা সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
মমতার ভাষায়, তার রাজনৈতিক জীবনে একাধিক প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তিনি দলের কর্মী-সমর্থকদের পাশে থেকে নেতৃত্ব দেবেন। তিনি বলেন, লড়াই, সংগ্রাম এবং মানুষের জন্য কাজ করাই তার রাজনৈতিক জীবনের মূল লক্ষ্য।
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে বড় ধরনের অস্থিরতার খবর সামনে এসেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দলের একাংশের জনপ্রতিনিধি বিদ্রোহী অবস্থান নিয়েছেন এবং কয়েকজন সাংসদ নতুন রাজনৈতিক জোটের প্রতি সমর্থনও জানিয়েছেন। যদিও এসব পরিস্থিতির মধ্যেও মমতা আত্মবিশ্বাসী যে দল আবারও সংগঠিত হবে।
আগামী ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী শহীদ দিবসকে ঘিরেও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এবার একই দিনে দলটির দুই পক্ষ পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এরই মধ্যে কলকাতা হাইকোর্টও ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের স্থান পরিবর্তনের অনুমতি দিয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস এবার ঐতিহ্যগত স্থান পরিবর্তন করে বিড়লা প্ল্যানেটারিয়ামের কাছাকাছি এলাকায় তাদের কর্মসূচি আয়োজন করবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে যুব কংগ্রেসের আন্দোলনে নিহত ১৩ কর্মীর স্মরণে প্রতিবছর ২১ জুলাই ‘শহীদ দিবস’ পালন করে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই কর্মসূচিকে ঘিরেই এবার দলীয় বিভাজন ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

