কলকাতা বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সংলগ্ন ১৩৬ বছর পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদে নামাজ আদায়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টির প্রতিবাদে শুক্রবার রাজপথে কর্মসূচির আহ্বান জানান রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুক্রবার সকাল থেকেই বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামান।
শুক্রবার সকাল থেকে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে মাইকিং করে জানানো হয়, একসঙ্গে চারজনের বেশি মানুষ জমায়েত হতে পারবেন না। নির্দেশনা অমান্য করে বড় ধরনের সমাবেশ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে গৌরীপুর জামে মসজিদের প্রবেশপথ এবং আশপাশের এলাকা কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে রাখা হয়েছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা সেখানে টহল দিচ্ছেন এবং অনুমতি ছাড়া কাউকে জড়ো হতে দেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয়ভাবে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামে পরিচিত গৌরীপুর জামে মসজিদটি প্রায় ১৩৬ বছরের পুরোনো। এটি কলকাতা বিমানবন্দরের ভেতরের অংশে অবস্থিত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, মসজিদটির অবস্থানের কারণে বিমান ওঠানামার সময় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই কারণেই সেখানে নামাজ আদায়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে বিরাটি ও বাঁকড়া এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

