ইরানের বিরুদ্ধে টানা সপ্তম রাতের মতো সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবে সর্বশেষ অভিযানে ইরানের একাধিক কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই অভিযান দুই দেশের সংঘাতকে আরও গভীর পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সেন্টকমের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে যুদ্ধবিমান, সশস্ত্র ড্রোন, যুদ্ধজাহাজ এবং অন্যান্য সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল নজরদারি স্থাপনা, সামরিক রসদ সরবরাহ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডার এবং সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা।
মার্কিন বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযান ১৭ জুলাই রাত ৯টা ৩০ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময়) শেষ হয়। তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের কোনো তথ্য সেন্টকম প্রকাশ করেনি।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে অভিযান চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোকে ঘিরে আরোপ করা নৌ অবরোধও আরও কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে তারা।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, টানা সাত দিনের সামরিক অভিযান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র শুধু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করার কৌশল অনুসরণ করছে। অন্যদিকে, ইরানও বিভিন্ন সময় পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমার বদলে আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই প্রভাবিত করছে না, বরং জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কূটনৈতিক মহলের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দ্রুত উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ না নেওয়া হলে সংঘাত আরও জটিল রূপ নিতে পারে।

