মার্কিন সামরিক হামলার জেরে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। দেশটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ লবণাক্ত পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অন্তত ২০টি গ্রামে সুপেয় পানির সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে প্রায় ১০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, হরমুজগান প্রদেশের উপকূলীয় জাস্ক জেলার বুঞ্জি গ্রামে অবস্থিত একটি প্রধান লবণাক্ত পানি শোধনাগার মার্কিন বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। হামলায় স্থাপনাটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
হরমুজগান ওয়াটার অ্যান্ড ওয়েস্টওয়াটার কোম্পানির প্রধান নির্বাহী আবদুলহামিদ হামজেহপুর বলেন, হামলায় সমুদ্র থেকে পানি উত্তোলনের প্রধান পাম্পিং স্টেশন এবং একটি বড় বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে শোধনাগারটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এবং আশপাশের গ্রামগুলোতে পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই শোধনাগারটি উপকূলীয় এলাকার হাজারো মানুষের জন্য সুপেয় পানির প্রধান উৎস ছিল। হঠাৎ করে এটি অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র পানির সংকটে পড়েছেন। প্রশাসন এখন জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প উপায়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ইরানি কর্মকর্তারা এই হামলাকে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের দাবি, চলমান সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক স্থাপনায় হামলা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে এবং মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উপকূলীয় শুষ্ক অঞ্চলে লবণাক্ত পানি শোধনাগারগুলোই নিরাপদ পানির প্রধান উৎস। ফলে এ ধরনের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু পানীয় জলের সংকটই নয়, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন এবং স্থানীয় জনজীবনের ওপরও ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়ে গেছে এবং স্বাধীনভাবে দাবিগুলো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বেসামরিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা এবং মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পানি, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য জরুরি সেবার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে, যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবেন সাধারণ মানুষ।

