দীর্ঘ ২০ দিনের অনশনের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওয়াংচুকের সমর্থকদের অভিযোগ, শনিবার ভোরে দিল্লি পুলিশ বলপ্রয়োগ করে তাকে অনশনস্থল থেকে সরিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে তার জীবন রক্ষার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, টানা অনশনের কারণে ওয়াংচুকের ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং তার শারীরিক অবস্থা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছিল। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণেও তার স্বাস্থ্যের অবনতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এই পরিস্থিতিতে অনশনের ২১তম দিনে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার আগে শুক্রবার রাতে অনশনস্থলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ওয়াংচুকের সমর্থকদের দাবি, কিছু ব্যক্তি সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন এবং তার দিকে একটি বস্তু ছুড়ে মারা হয়। এই ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
এদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দল কংগ্রেসও সম্প্রতি ওয়াংচুকের আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানায়। কংগ্রেসের এক প্রতিনিধি দল অনশনস্থলে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে তারা কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে দাবি করে, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে ওয়াংচুকের আন্দোলন নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পেতে শুরু করেছিল। তার স্বাস্থ্য নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ার পাশাপাশি অনশনস্থলেও মানুষের উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছিল।
এর মধ্যেই দিল্লি হাই কোর্ট ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেয়। আদালত সরকারি চিকিৎসকদের মাধ্যমে প্রতিদিন তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালানোর কথা বলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেয়।
এই নির্দেশনার পরই শনিবার ভোরে পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে সমর্থকদের অভিযোগ, ওয়াংচুকের সম্মতি ছাড়াই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, আদালতের নির্দেশনা এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার জীবন রক্ষার স্বার্থেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুন থেকে শিক্ষাব্যবস্থা ও বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু হয়। এর সাত দিন পর সোনম ওয়াংচুক অনশন শুরু করেন। প্রথমদিকে আন্দোলনে জনসমাগম সীমিত থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনটি দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনায় আসে।
ওয়াংচুককে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে সমর্থকরা এটিকে জোরপূর্বক হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, এটি ছিল একজন অনশনকারীর জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাগত ব্যবস্থা।

