গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৮ জন একটি জানাজার নামাজে অংশ নেওয়ার সময় ড্রোন হামলার শিকার হন। সূত্র: আল-জাজিরা
হামাসের সঙ্গে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই তা লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় জানাজার নামাজে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আটজন নিহত হন। আল-আওদা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহমাদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে একটি জানাজার নামাজ শুরু হওয়ার অপেক্ষায় থাকা মানুষের ওপর ড্রোনটি হামলা চালায়। একই এলাকায় দিনের শুরুতে হওয়া আরেকটি হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা সেখানে অবস্থান করছিল।
আল জাজিরার গাজা প্রতিনিধি হানি মাহমুদ বলেন, যুদ্ধবিরতির কোনো বাস্তবতা এখানে দেখা যাচ্ছে না। মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষের ওপর সরাসরি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলার দায় স্বীকার করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, সেনাবাহিনী দাবি করেছে তারা মধ্য গাজায় একটি সন্ত্রাসী সেলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তারা স্বীকার করেছে যে হামলায় নিরীহ মানুষ হতাহত হওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তারা অবগত এবং ঘটনাটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এদিকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি ধারাবাহিকভাবে লঙ্ঘন করে ইসরায়েল নিরীহ বেসামরিক মানুষকে হত্যা ও আতঙ্কিত করে চলেছে। মধ্যস্থতাকারী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনেই এসব ঘটনা ঘটছে।

