ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। সর্বশেষ জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার পর সংঘাত শুরুর পর থেকে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ৪৩০ জনের বেশি সেনা আহত হয়েছেন এবং একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির এই নতুন হিসাব সামনে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বাড়ছে উভয় পক্ষের মানবিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ।
বর্তমান সংঘাতের সূচনা হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। এর পরদিন, ১ মার্চ, প্রথমবারের মতো মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ওই দিন কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন।
একই দিনে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে আরেকটি হামলায় গুরুতর আহত হন একজন মার্কিন সেনাসদস্য। দীর্ঘ চিকিৎসার পর ৮ মার্চ তিনি মারা যান। ফলে সংঘাতের প্রথম দিকেই মার্কিন বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করে।
এরপর ১২ মার্চ ইরাকে সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী একটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী কেসি-১৩৫ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হলে ছয় মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এটি শত্রুপক্ষের হামলার কারণে নয়, বরং একটি দুর্ঘটনা। যদিও ঘটনার সময় আরেকটি উড়োজাহাজ জড়িত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পরে ১ জুলাই আরব সাগরে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হলে মার্কিন নৌবাহিনীর একজন পাইলট নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী জানায়, এ দুর্ঘটনার সঙ্গে শত্রুপক্ষের হামলার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
সবশেষে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আরও দুই সেনাসদস্য নিহত হন। একই ঘটনায় একজন সেনা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এই হামলার পরই চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ১৬-তে পৌঁছায়।
অন্যদিকে সংঘাতে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়েও ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস ইন ইরান-এর বরাতে জানিয়েছে, এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত ইরানে মোট ৩ হাজার ৬৩৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৭০১ জন বেসামরিক নাগরিক। তবে সামরিক বাহিনীর কত সদস্য নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে সংস্থাটি যাচাইকৃত কোনো পৃথক তথ্য দেয়নি। রয়টার্সও উল্লেখ করেছে, তারা এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
এদিকে আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সরকারি হিসাব বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় মোট ৩ হাজার ৪৬৮ জন নিহত এবং ২৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে এই পরিসংখ্যানে কতজন বেসামরিক এবং কতজন সামরিক সদস্য রয়েছেন, সে বিষয়ে আলাদা কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয় পক্ষের প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। তবে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এবং অনেক তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে আনুষ্ঠানিক ও যাচাইকৃত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত।

