ভারতে প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের অধিকার ও ন্যায্য দাবির পক্ষে যে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে, তা প্রশংসার যোগ্য। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের প্রতিও গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেতা।
বুধবার (২২ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সালমান খান বলেন, শুরুতে আন্দোলনটি শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে পরবর্তীতে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা শুধু একটি পরীক্ষাকে নয়, লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়। তাই এ ধরনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান জরুরি।
সালমানের মতে, দেশের তরুণ প্রজন্ম উন্নত ও স্বচ্ছ শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে যেভাবে একসঙ্গে দাঁড়িয়েছে, তা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তিনি বলেন, এই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের অংশগ্রহণও প্রমাণ করে যে বিষয়টি এখন পুরো সমাজের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের দৃঢ়তা, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার ইচ্ছাই তাদের এই অবস্থানের মূল শক্তি। তার বিশ্বাস, শান্তিপূর্ণ উপায়ে দাবি আদায়ের এই প্রচেষ্টা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে এবং ভবিষ্যতে ভারতের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে।
তবে একই সঙ্গে সালমান খান একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও দেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। তার মতে, এটি মূলত শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিষয়, তাই আন্দোলনের কৃতিত্বও শিক্ষার্থীদেরই প্রাপ্য।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদ্যমান অনিয়ম দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পুরো দেশেরই উপকার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি ইতোমধ্যেই সমর্থন জানিয়েছেন বলিউড ও ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরও বেশ কয়েকজন পরিচিত তারকা। তাদের মধ্যে রয়েছেন হৃতিক রোশন, দিলজিৎ দোসাঞ্জ, নাসিরুদ্দিন শাহ, সোনাক্ষী সিনহা, রত্না পাঠক শাহ, শাবানা আজমি, প্রকাশ রাজ, টোভিনো থমাস এবং অতুল কুলকার্নি।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে চাকরির বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করলে বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে পরবর্তীতে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

