যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরাকের মাধ্যমে পাঠানো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। এর মধ্যেই টানা ১৩তম রাতেও ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ইরানি ও ইরাকি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠকের পর তৈরি করা একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে বৃহস্পতিবার তেহরান সফর করেন।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমন কোনো অস্থায়ী সমঝোতায় যেতে তারা আগ্রহী নন, যেখানে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ ও অবস্থান নিয়ে কোনো স্পষ্ট সমাধান থাকবে না। তাদের মতে, এই বিষয়টিই আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন ইস্যু।
অন্যদিকে আল-জাইদির কার্যালয় জানিয়েছে, শান্তি ও কূটনৈতিক আলোচনার বার্তা নিয়েই তিনি তেহরান সফর করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ বা পণ্যবাহী কার্গোর ওপর হামলার কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হবে, তার ক্ষতিপূরণ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা অর্থ থেকে আদায় করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এখন থেকে জাহাজ, কার্গো কিংবা এ-সংক্রান্ত যেকোনো ক্ষতির অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন ইরানি সম্পদ থেকে পরিশোধ করা হবে।
ট্রাম্পের এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণের অজুহাতে অন্য দেশের সম্পদ জব্দ করা একটি বিপজ্জনক ও উসকানিমূলক দৃষ্টান্ত।
তিনি আরও বলেন, যারা এ ধরনের সম্পদ জব্দকে সমর্থন করছেন, তাদের মনে রাখা উচিত—যদি রাষ্ট্রগুলোর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা আন্তর্জাতিক আচরণের স্বাভাবিক অংশ হয়ে যায়, তাহলে কোনো দেশের সম্পদই আর নিরাপদ থাকবে না।
আরাগচির সতর্কবার্তা, এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে এবং এর পরিণতি কোনোভাবেই শান্তিপূর্ণ হবে না।

