যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। একই সঙ্গে তার দাবি, ইরান আগের তুলনায় এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ জুলাই) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটন একদিকে যেমন সামরিক বিকল্প খোলা রাখছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রেখেছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ইরানের অবস্থানেও পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তার দাবি, সময় যত এগোচ্ছে, তেহরান ততই আলোচনার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। কেন এমন পরিবর্তন এসেছে, সেটিও সবার কাছে মোটামুটি স্পষ্ট বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন কয়েক দিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা চলছে। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য ওই অভিযান বাস্তবায়িত হলে সেটি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র চেয়েও বড় হতে পারে। ট্রাম্প নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে আগের যেকোনো অভিযানের তুলনায় আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
তিনি বলেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি রয়েছে। সব ধরনের প্রস্তুতিমূলক কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের ভেতরের চিত্র কিছুটা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত নতুন কোনো সামরিক নির্দেশ জারি করা হয়নি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি। ট্রাম্প নিজেও সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে দুই ধরনের বার্তা রয়েছে। একদিকে তিনি সামরিক চাপ বজায় রাখার অবস্থান তুলে ধরছেন, অন্যদিকে আলোচনার দরজা খোলা রাখারও ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এ ধরনের কৌশল সাধারণত প্রতিপক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। তাই আগামী কয়েক দিনে দুই দেশের অবস্থান কোন দিকে মোড় নেয়, তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

