ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে আজ শনিবার (২৫ জুলাই) তৃতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনের সমাধান খুঁজতে গত কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। আজকের বৈঠককে চলমান সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকার ইতোমধ্যে আন্দোলনকারীদের তিনটি প্রধান দাবির মধ্যে দুটি বাস্তবায়নে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত না নিয়ে আরও কিছু সময় চেয়েছে। ফলে এই ইস্যুই আজকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে।
এদিকে রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও জনসমাগম বিবেচনায় কয়েকটি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে দিল্লি মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের আগেই মদের দোকান বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দিল্লি পুলিশের সদস্যদের নিয়মিত ছুটিও বাতিল করা হয়েছে এবং সবাইকে দায়িত্বে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ৪৮ ঘণ্টায় আন্দোলন ঘিরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। সরকারের আশ্বাসের পর ২৬ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাওয়া সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করেছেন। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে।
এদিকে সংঘবদ্ধ প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা একটি খসড়া আইন অনুমোদন করেছে। প্রস্তাবিত আইনে দোষীদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণাও দিয়েছেন। সরকারের দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কঠোরভাবে দমন করতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এখন সবার নজর আজকের বৈঠকের দিকে। আলোচনার মাধ্যমে বাকি দাবিগুলো নিয়ে সমঝোতা হবে, নাকি আন্দোলন নতুন মোড় নেবে—সেই উত্তর মিলতে পারে এই বৈঠকের পরই।

