উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে অন্তত ৯ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মরক্কো সীমান্ত দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করায় পরিস্থিতি সংকটজনক হয়ে উঠেছে।
গত ১০ দিনে প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছে। বৃহস্পতিবারও কয়েকশ মানুষ সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলে ভিড় ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতিকে ‘মানবিক ও সামাজিক জরুরি অবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করে সেউতার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হেসুস ভিভাস সীমান্তে সেনা মোতায়েনের আহ্বান জানান। যদিও স্পেন সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা না করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্থানীয় ভিডিওতে দেখা গেছে, বহু অভিবাসী সমুদ্রপথে ভাসমান নৌযান ও ফোলানো টিউব ব্যবহার করে এবং কেউ কেউ সীমান্তের উঁচু বেড়া টপকে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করছেন। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, ২০২১ সালের বড় অভিবাসী সংকটের পর এটিই সবচেয়ে বড় ঢল।
সেউতা ও মেলিয়া আফ্রিকা মহাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত হওয়ায় উন্নত জীবনের আশায় হাজারো মানুষ নিয়মিত এসব সীমান্ত দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
সম্প্রতি স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে সমুদ্রে আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না বলে সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর সীমান্তে অভিবাসীর চাপ আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
স্পেন সরকার জানিয়েছে, মানবপাচার রোধ ও অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে তারা মরক্কোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেউতা সফরেরও কথা রয়েছে।

