আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে তামার দাম। ডলারের বিনিময়মূল্য কমে যাওয়া, গুদামে মজুদ হ্রাস এবং চীনে সরবরাহ সংকট—এই তিনটি কারণ একসঙ্গে কাজ করায় জুলাইজুড়ে তামার বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শিল্প খাতে চাহিদা বাড়তে থাকলেও সরবরাহ সেই গতিতে না বাড়ায় ধাতুটির দাম আরও শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, লন্ডন ধাতু বাজারে তিন মাস মেয়াদি তামার চুক্তিমূল্য গতকাল পর্যন্ত প্রতি টনে ১৩ হাজার ৮০৪ ডলার ৫ সেন্টে স্থির ছিল। তবে পুরো জুলাই মাসের হিসাবে তামার দাম ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে চীনের সাংহাই ধাতু বাজারে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া তামার চুক্তিমূল্য দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে প্রতি টনে প্রায় ১৫ হাজার ৬৩৫ ডলার ৭৪ সেন্ট বা ১০ লাখ ৫ হাজার ৫১০ ইউয়ানে পৌঁছেছে। জুলাই মাসে চীনের বাজারে তামার দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডলারের বিনিময়হার কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী দেশগুলোর জন্য ডলারভিত্তিক তামা কেনা তুলনামূলক সহজ হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে এবং চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে বাজারে দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
জুলাই মাসে আন্তর্জাতিকভাবে নিবন্ধিত গুদামগুলোতে তামার মজুদ ২১ দশমিক ৩৮ শতাংশ কমে ২৫ লাখ ৫ হাজার ৪০০ টনে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মজুদ দ্রুত কমে যাওয়া ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে, যা সাধারণত বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতিতে অনেক ক্রেতা আগাম কেনাকাটার দিকেও ঝুঁকছেন।
অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তামা ব্যবহারকারী দেশ চীনে পুরনো বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য তামার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে নতুন পরিশোধিত তামা কিনছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য মার্কিন শুল্ক আরোপের আশঙ্কায় অনেক প্রতিষ্ঠান আগেভাগেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তামা পাঠাচ্ছে। এর প্রভাবেও অন্যান্য অঞ্চলের গুদামগুলোতে মজুদ কমে যাচ্ছে এবং বৈশ্বিক সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের মূল্য তুলনামূলক কম থাকা, সরবরাহ সংকট এবং শিল্প খাতে চাহিদা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতেও তামার বাজার শক্তিশালী থাকতে পারে। তবে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি, চীনের আমদানি প্রবণতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতিতে পরিবর্তন এলে দামের গতিপথেও পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে এসব বিষয়ই বিশ্ব তামার বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

