ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে পরিচিত মোজতবা খামেনির অবস্থান শনাক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ যৌথভাবে উচ্চ অগ্রাধিকারভিত্তিক একটি গোপন অভিযান জোরদার করেছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনির অবস্থান এবং দেশটির সরকার পরিচালনায় তার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
দ্য টাইমসের প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, গত ৮ মার্চ ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার বাবা এবং সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তাকে এই পদে বসানো হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এই তথ্যের পক্ষে স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সূত্রের নিশ্চিত সমর্থন পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত কয়েক মাসে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে উপস্থিত হননি। তিনি কোনো সাক্ষাৎকার দেননি, টেলিভিশনে ভাষণও দেননি। পাশাপাশি যোগাযোগের ক্ষেত্রে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখায় পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তার অবস্থান এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
দ্য টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, মোজতবা খামেনি ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার থেকে পুরোপুরি দূরে থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করছেন। এক জ্যেষ্ঠ পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ মাসে তার কোনো মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, তিনি কোনো ইলেকট্রনিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার না করে হাতে লেখা চিরকুটের মাধ্যমে নির্দেশনা পাঠাচ্ছেন। এসব বার্তা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অত্যন্ত বিশ্বস্ত সদস্যদের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ফলে তার অবস্থান শনাক্ত করা বা যোগাযোগের ওপর নজরদারি চালানো সিআইএ ও মোসাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের ধারণা, মোজতবা খামেনি তেহরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত কোনো ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে অথবা ধর্মীয় নগরী কোমের গভীর টানেল নেটওয়ার্কের মধ্যে অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে কৌশলগত কারণে প্রকৃত অবস্থান আড়াল করতে ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা ‘ডিকয়’ ব্যবহার করছে বলেও কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন।
এদিকে, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলায় মোজতবা খামেনি নিজেও গুরুতর আহত হয়েছিলেন কি না, তা নিয়েও নানা ধরনের আলোচনা রয়েছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, তিনি জীবিত আছেন এবং দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নওরোজ উপলক্ষে প্রচলিত টেলিভিশন ভাষণ না দিয়ে মোজতবা খামেনি শুধু টেলিগ্রামে একটি লিখিত বার্তা প্রকাশ করেন। যদিও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, তিনি সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন। তবে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই সাক্ষাতের সময় ও সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মোজতবা খামেনির জনসমক্ষে অনুপস্থিতির সুযোগে ইরানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রভাব আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, পারমাণবিক অবকাঠামো এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আইআরজিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

