মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে আরোপ করা শুল্কের বড় অংশ আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ার পর আমদানিকারকদের কাছে এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশকে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার আওতায় এত উচ্চহারে শুল্ক আরোপের জন্য পর্যাপ্ত আইনগত ভিত্তি ছিল না। এই রায়ের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সীমারেখা টানা হয়।
রায় ঘোষণার আগে বিভিন্ন দেশের আমদানিপণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক থেকে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ১৬৬ বিলিয়ন ডলার আদায় করেছিল। পরে নিম্ন আদালতের নির্দেশ অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) সংস্থা শুল্ক ফেরতের কার্যক্রম শুরু করে।
মঙ্গলবার আদালতে জমা দেওয়া নথিতে সিবিপি জানায়, বর্তমানে ১২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার ফেরতের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মধ্যে তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি অর্থ ইতোমধ্যে আমদানিকারকদের পরিশোধ করা হয়েছে। ফেরত দেওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এত দ্রুত শুল্ক ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করছে। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান সিডলি অস্টিনের বাণিজ্য আইনজীবী টেড মারফি বলেন, প্রশাসন প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুতগতিতে অর্থ ফেরত দিচ্ছে। একই মূল্যায়ন দিয়েছেন ক্যাপস্টোন ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজার্সের বিশ্লেষক ওয়াকার লিভিংস্টন।
তবে সমালোচকদের দাবি, ফেরত দেওয়া বিপুল অর্থের বেশির ভাগই বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে যাচ্ছে। অথচ অতিরিক্ত শুল্কের চাপ বহন করা সাধারণ ভোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো সরাসরি এ সুবিধা পাচ্ছে না।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, শুল্ক ফেরতের বিষয়টি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে। কিন্তু আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর বাস্তবে দ্রুতগতিতেই ফেরত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

