দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে দেখা না যাওয়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয় বলে জানিয়েছে চীনের সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া ও সিজিটিএন।
১৩ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে মুজতবা খামেনিকে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বসে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তিনি আশপাশে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছিলেন।
তবে ভিডিওটি কখন বা কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে মেহের নিউজের প্রতিবেদনে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে ভিডিওতে মুজতবা খামেনিকে ঘিরে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি।
সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেহের নিউজ শনিবার ভিডিওটি প্রকাশ করেছে। তবে মেহের নিউজের ইংরেজি সংস্করণের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন বা ভিডিও পাওয়া যায়নি।
এর দুই দিন আগে বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছিলেন, সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ করা বর্তমানে ‘খুবই কঠিন’। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধের খবরের মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে একই সঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, মুজতবার উপস্থিতি ইরানের মানুষের জন্য দেশের ভবিষ্যৎ পথচলায় ‘অনেক বড় শক্তি’।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা শুরু হয়। ওই হামলায় মুজতবা খামেনি আহত হন বলে জানা যায়। একই হামলায় তার বাবা এবং ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এ ছাড়া ইরানের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার ও বহু বেসামরিক নাগরিকও ওই হামলায় নিহত হন।
এরপর থেকেই মুজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও জল্পনা তৈরি হয়।
হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েলের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর মার্চের শুরুতে ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ মুজতবা খামেনিকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। দীর্ঘ সময় পর প্রকাশ্যে তার একটি ভিডিও সামনে আসায় ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

