Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শুক্র, আগস্ট 14, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » মধ্যপ্রাচ্যের হামলায় কাঁপছে ইন্দো-প্যাসিফিক
    আন্তর্জাতিক

    মধ্যপ্রাচ্যের হামলায় কাঁপছে ইন্দো-প্যাসিফিক

    নিউজ ডেস্কআগস্ট 13, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ইরানের সাম্প্রতিক হামলা শুধু ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই নতুন করে আলোচনায় আনেনি। এর প্রভাব এখন বহু দূরের দেশেও অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে অথবা মার্কিন বাহিনী স্থানীয় সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করে, সেখানে একটি প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে—বিদেশি সামরিক উপস্থিতি কি সত্যিই নিরাপত্তা বাড়ায়, নাকি কোনো বড় সংঘাত শুরু হলে সেই উপস্থিতিই স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে?

    যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিদেশি সামরিক ঘাঁটি-ব্যবস্থা পরিচালনা করে। বিশ্বের 80টি দেশে দেশটির প্রায় ৭৫০টি সামরিক স্থাপনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারের সুযোগ থাকা সামরিক স্থাপনা ইরানের হামলার লক্ষ্য হয়েছে। এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী সামরিক আঘাতের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসেছে এবং এতে কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে।

    এই পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সামরিক ঘাঁটি নিয়ে পুরোনো একটি বিতর্ক এখন বাস্তব উদাহরণ পাচ্ছে। আগে বিদেশি সামরিক ঘাঁটির বিরোধীরা বলতেন, কোনো শক্তিধর দেশের সামরিক উপস্থিতি স্থানীয় এলাকাকে প্রতিপক্ষের হামলার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। অনেকের কাছে সেই আশঙ্কা দীর্ঘদিন ছিল তাত্ত্বিক। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক স্থাপনার ওপর সরাসরি হামলার পর একই যুক্তিকে আর নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য বলে উড়িয়ে দেওয়া সহজ হচ্ছে না।

    মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনা কেন ইন্দো-প্যাসিফিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

    ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অংশীদার রয়েছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন সেনার উপস্থিতি বিশেষভাবে বড়। মূল নিবন্ধে বলা হয়েছে, বিশ্বে বিদেশে মোতায়েন মার্কিন সেনার সংখ্যার বিচারে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান যথাক্রমে প্রথম ও তৃতীয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই এসব দেশের জনমত ও নিরাপত্তা আলোচনায় প্রভাব ফেলছে।

    বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কৌশলগত প্রতিযোগিতা এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়েছে। তাইওয়ান প্রণালি থেকে দক্ষিণ চীন সাগর—বিভিন্ন অঞ্চলকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোর সামনে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    ফিলিপাইনে ইতিমধ্যে এ ধরনের প্রশ্ন প্রকাশ্যে উঠেছে। দেশটির কিছু নীতিনির্ধারক উদ্বেগ জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার ফলে সম্ভাব্য চীন-মার্কিন সংঘাতে ফিলিপাইনের ভূখণ্ডও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। অর্থাৎ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যে সামরিক সহযোগিতা তৈরি করা হয়েছে, কোনো বড় সংঘাতের সময় সেটিই উল্টো অতিরিক্ত নিরাপত্তা-ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

    এই দ্বৈত বাস্তবতাই বর্তমানে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। একটি দেশ একদিকে শক্তিশালী মিত্রের সামরিক সহায়তা পেতে পারে, অন্যদিকে সেই মিত্রের প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হলে নিজ ভূখণ্ডে হামলার আশঙ্কাও বহন করতে পারে।

    জাপানের ওকিনাওয়ায় পুরোনো ভয় নতুন করে সামনে

    জাপানের ওকিনাওয়া দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্র। সেখানে শান্তিবাদী ও ঘাঁটিবিরোধী আন্দোলনকারীরা বহু বছর ধরে বলে আসছেন, জাপানের অন্য এলাকার তুলনায় ওকিনাওয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি অত্যন্ত বেশি হওয়ায় কোনো আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হলে এই অঞ্চল প্রথম দিকের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

    চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এবং বিশেষ করে কাছাকাছি তাইওয়ান প্রণালি ঘিরে সামরিক অনিশ্চয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই যুক্তিও আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক হামলা সেই আশঙ্কাকে নতুন বাস্তব উদাহরণ দিয়েছে।

    এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্থানীয় মানুষের কাছে নিরাপত্তার ধারণা সব সময় জাতীয় সরকারের নিরাপত্তা-নীতির সঙ্গে এক হয় না। কেন্দ্রীয় সরকার হয়তো সামরিক জোটকে দেশের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য মনে করতে পারে, কিন্তু যে এলাকার মানুষ সরাসরি সামরিক ঘাঁটির পাশে বসবাস করেন, তাদের কাছে ঝুঁকির হিসাবটি একেবারেই ভিন্ন হতে পারে।

    দক্ষিণ কোরিয়ায় একই ধরনের উদ্বেগ

    দক্ষিণ কোরিয়াতেও সামরিক স্থাপনা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধিতা নতুন কিছু নয়। 2017 সালে উচ্চস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপনের সময় সোসং গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

    তাদের আশঙ্কা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়া কিংবা চীনের কোনো সংঘাত হলে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা এলাকাটি সম্ভাব্য হামলার প্রথম দিকের লক্ষ্য হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার পর এই ধরনের আশঙ্কা আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

    অর্থাৎ সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হলেও স্থানীয় জনগণের চোখে সেটি একই সঙ্গে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবেও দেখা দিতে পারে।

    সামরিক ঘাঁটির বিরোধিতা শুধু যুদ্ধের ভয় নয়

    বিদেশি সামরিক ঘাঁটি নিয়ে স্থানীয় অসন্তোষের কারণ কেবল শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য হামলা নয়। সামরিক ঘাঁটির আশপাশের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে আরও নানা সমস্যার কথা বলে আসছেন।

    এর মধ্যে সামরিক সদস্যদের সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনা ও অপরাধ, পরিবেশ দূষণ, ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি, যানজট এবং অতিরিক্ত শব্দ অন্যতম। মূল বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গবেষকেরা এমন পরিস্থিতিকে এমন এক সামাজিক প্রবণতার সঙ্গে যুক্ত করেন, যেখানে মানুষ জাতীয় পর্যায়ে কোনো নীতি সমর্থন করলেও সেই নীতির নেতিবাচক প্রভাব নিজের এলাকায় বহন করতে অনিচ্ছুক থাকে।

    উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো দেশের নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক জোটকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় মনে করতে পারেন। কিন্তু একই ব্যক্তি তার বাড়ির কাছাকাছি বড় সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে সমর্থন নাও করতে পারেন।

    কারণ জাতীয় নিরাপত্তার সুবিধা গোটা দেশ পায়, অথচ শব্দ, যানজট, পরিবেশগত ক্ষতি বা সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বহন করতে হয় নির্দিষ্ট এলাকার জনগণকে।

    এই ব্যবধানই ঘাঁটিবিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তিগুলোর একটি।

    ঘাঁটির বিরোধিতা বাড়লেও জনমত পুরোপুরি নেতিবাচক নয়

    তবে স্থানীয় আন্দোলন কিংবা প্রতিবাদ দেখেই ধরে নেওয়া ঠিক হবে না যে সংশ্লিষ্ট দেশের অধিকাংশ মানুষ মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে।

    ২০১০-এর দশকে ১৪টি দেশে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা যায়, অধিকাংশ মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশের নাগরিকদের মনোভাব মার্কিন সামরিক উপস্থিতির প্রতি ইতিবাচক অথবা নিরপেক্ষ ছিল।

    ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ফিলিপাইন ও দক্ষিণ কোরিয়াও এই জরিপের অংশ ছিল। সেখানে ফিলিপাইনে ৭৬ শতাংশ উত্তরদাতা মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সম্পর্কে খুব অথবা কিছুটা ইতিবাচক মত দিয়েছিলেন। 14টি দেশের মধ্যে এটাই ছিল সর্বোচ্চ।

    দক্ষিণ কোরিয়ায় এই হার ছিল ৫২ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় ৫০ শতাংশ। জাপানে ইতিবাচক মত ছিল 34 শতাংশ। যদিও অন্য তিন দেশের তুলনায় জাপানের হার কম, তারপরও নিরপেক্ষ ও নেতিবাচক অবস্থানের তুলনায় ইতিবাচক মনোভাব উল্লেখযোগ্য ছিল।
    এ থেকে বোঝা যায়, স্থানীয় ঘাঁটিবিরোধী আন্দোলন এবং জাতীয় জনমতকে একই বিষয় হিসেবে দেখা যাবে না। অনেক নাগরিক ঘাঁটির কিছু নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও বৃহত্তর নিরাপত্তার স্বার্থে সামরিক জোটকে প্রয়োজনীয় মনে করতে পারেন।

    ২০২৬ সালের জরিপে কিছুটা ভিন্ন চিত্র

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত শুরুর পর ২০২৬ সালে পরিচালিত আরেকটি বৃহৎ জরিপ তুলনামূলকভাবে বেশি সতর্কতামূলক চিত্র তুলে ধরে। জরিপে অন্তর্ভুক্ত অধিকাংশ মার্কিন সেনা-আয়োজক দেশে বিদেশি সেনা উপস্থিতি নিয়ে সামগ্রিক মতামত নেতিবাচক ছিল।

    তারপরও ইন্দো-প্যাসিফিকের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশে তুলনামূলকভাবে বেশি সমর্থন দেখা যায়।

    দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি রাখার বিষয়ে নিট ইতিবাচক মত ছিল ১৪ এবং জাপানে ২। অন্যদিকে ফিলিপাইনে এই সূচক ছিল -২ এবং অস্ট্রেলিয়ায় -১৮। তবে ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়ায় ইতিবাচক এবং সিদ্ধান্তহীন মত একত্রে নেতিবাচক মতের তুলনায় বেশি ছিল।

    এই পরিসংখ্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে আনে। মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু সেই উদ্বেগ এখনো সব দেশে সামরিক জোট প্রত্যাখ্যানের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

    নিরাপত্তা বনাম ঝুঁকি—দুই ধরনের হিসাব

    ইন্দো-প্যাসিফিকের দেশগুলোর জন্য মূল প্রশ্নটি তাই কেবল মার্কিন ঘাঁটি থাকবে কি থাকবে না—এতটা সরল নয়।

    প্রথম হিসাবটি হলো প্রতিরক্ষা। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কোনো দেশের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে হামলার আগে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য করতে পারে। জোট, যৌথ মহড়া, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতার মাধ্যমে আয়োজক দেশ বাড়তি নিরাপত্তা পেতে পারে।

    কিন্তু দ্বিতীয় হিসাবটি হলো সংঘাতের ঝুঁকি। যুক্তরাষ্ট্র কোনো বড় শক্তির সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে আয়োজক দেশের ঘাঁটি, বিমানবন্দর, বন্দর কিংবা সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিপক্ষের হামলার তালিকায় চলে আসতে পারে।

    মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনা দ্বিতীয় আশঙ্কাটিকে আর কেবল সম্ভাব্য দৃশ্যপটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। বাস্তবে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা হতে পারে—এটি এখন জনগণ চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে।

    ঘাঁটিবিরোধী আন্দোলন কি আরও শক্তিশালী হবে?

    বর্তমান পরিস্থিতিতে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে ঘাঁটিবিরোধী সংগঠনগুলো নতুন রাজনৈতিক যুক্তি পেতে পারে।

    আগে তাদের বক্তব্যের কেন্দ্র ছিল স্থানীয় পরিবেশ, শব্দ, অপরাধ, জমি ব্যবহার বা সার্বভৌমত্ব। এখন এর সঙ্গে আরও স্পষ্টভাবে যোগ হতে পারে সরাসরি সামরিক হামলার ঝুঁকি।

    মূল নিবন্ধের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইন্দো-প্যাসিফিকের শান্তিবাদী ও ঘাঁটিবিরোধী আন্দোলনকারীরা ভবিষ্যতে আরও জোর দিয়ে বলতে পারেন যে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও সম্ভাব্য সংঘাতের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক হামলা তাদের এই যুক্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে আগের তুলনায় বেশি বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারে।

    তবে এখানেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। কোনো সামরিক ঘাঁটি নিয়ে ভয় বা বিরোধিতা বেড়ে যাওয়া মানেই যে সাধারণ মানুষ মার্কিন সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার চাইবে, তা নয়।

    চীনকে ঘিরে হিসাব বদলে যেতে পারে

    দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থান নিয়েছে। ফলে এসব দেশে শুধু হামলার আশঙ্কার কারণে হঠাৎ করে মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ করার দাবি ব্যাপক জনসমর্থন পাবে—এমন সিদ্ধান্ত এখনই দেওয়া কঠিন।

    বরং তাদের সামনে বড় প্রশ্ন হতে পারে, কীভাবে মার্কিন নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রেখেও নিজেদের ভূখণ্ডের ঝুঁকি কমানো যায়।

    অন্যদিকে যেসব ইন্দো-প্যাসিফিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে সমদূরত্ব বজায় রাখতে চায়, তাদের জন্য বিষয়টি আরও জটিল।

    কারণ ভবিষ্যতে দুই শক্তির মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত হলে কোনো এক পক্ষকে সামরিক সুবিধা দেওয়া মানেই অন্য পক্ষের চোখে নিজের নিরপেক্ষ অবস্থান দুর্বল করে ফেলা হতে পারে।

    এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাগুলো শুধু মার্কিন মিত্রদের নয়, নিরপেক্ষতা ধরে রাখতে আগ্রহী এশীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিকল্পনাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

    নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রবণতাও বাড়তে পারে

    আরেকটি সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আরও তাৎপর্যপূর্ণ।

    বিদেশি সেনার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হলে কিছু দেশে নিজেদের স্বাধীন সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি শক্তিশালী হতে পারে।

    মূল বিশ্লেষণে একজন সাক্ষাৎকারদাতার বক্তব্যের ভিত্তিতে এমন আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়েছে যে দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও নিজস্ব শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, এমনকি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পক্ষে জনসমর্থন বাড়তে পারে।

    এটি ঘটলে ইন্দো-প্যাসিফিকের নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ বর্তমানে অনেক দেশের প্রতিরক্ষা কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর নির্ভরশীল। সেই আস্থা দুর্বল হলে দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও স্বাধীন করার চেষ্টা করতে পারে।

    সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন

    ইরানের হামলা তাই মধ্যপ্রাচ্যের একটি বিচ্ছিন্ন সামরিক ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা যাবে না। এটি বিশ্বজুড়ে বিদেশি সামরিক ঘাঁটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত মূল্য নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

    একদিকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি অনেক দেশের জন্য প্রতিরক্ষার নিশ্চয়তা ও শক্তিশালী মিত্রতার প্রতীক। অন্যদিকে একই উপস্থিতি কোনো বড় সংঘাতের সময় সেই দেশকে প্রতিপক্ষের সরাসরি হামলার মুখেও ফেলতে পারে।

    ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা যত বাড়বে, এই দ্বন্দ্ব তত স্পষ্ট হতে পারে।

    বিশেষ করে সামরিক ঘাঁটির আশপাশের সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নটি আরও সরাসরি—তাদের এলাকায় থাকা বিদেশি সামরিক শক্তি কি তাদের নিরাপদ করছে, নাকি এমন কোনো সংঘাতের অংশ বানাচ্ছে যার সিদ্ধান্ত তারা নিজেরা নেয়নি?

    মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা সেই প্রশ্নের সহজ উত্তর দেয় না। বরং এটি দেখিয়ে দিচ্ছে, বিদেশি সামরিক ঘাঁটির সুবিধা ও ঝুঁকি একই মুদ্রার দুই দিক।

    আগামী দিনে তাই ইন্দো-প্যাসিফিকের নিরাপত্তা রাজনীতিতে শুধু সেনাসংখ্যা, যুদ্ধজাহাজ কিংবা ক্ষেপণাস্ত্রের হিসাব নয়; স্থানীয় জনমত, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, ঘাঁটির আশপাশের মানুষের নিরাপত্তা এবং বড় শক্তিগুলোর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    সামরিক ঘাঁটি নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রেও সম্ভবত একটি প্রশ্নই সবচেয়ে বেশি সামনে আসবে—একটি শক্তিশালী মিত্রের উপস্থিতি কতটা নিরাপত্তা দেয়, আর সেই নিরাপত্তার বিনিময়ে স্থানীয় জনগণকে কতটা ঝুঁকি বহন করতে হয়?

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    তেল আগে, ইরানের পরমাণু অস্ত্র ঠেকানো পরে: ভ্যান্স

    আগস্ট 14, 2026
    শিক্ষা

    চারটি শব্দ লিখতেও ব্যর্থ শিক্ষার্থীরা, কান্নায় ভেঙে পড়লেন শিক্ষক

    আগস্ট 14, 2026
    আন্তর্জাতিক

    আল কায়েদা বাংলাদেশে ‘সেল গঠনের’ চেষ্টা করছে: জাতিসংঘের সতর্কতা

    আগস্ট 14, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.