কেনিয়ায় সাফারি ভ্রমণের সময় ভয়াবহ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইকুয়েডরের গোয়েন্দাপ্রধান, তাঁর স্ত্রী এবং পাঁচ মার্কিন নাগরিকসহ মোট সাতজন নিহত হয়েছেন। পর্যটকদের নিয়ে উড়তে থাকা হেলিকপ্টারটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকার কাছে বিধ্বস্ত হলে ঘটনাস্থলেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বুধবার, ১৯ আগস্ট স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৯টার দিকে সামবুরু কাউন্টিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইকুয়েডরের গোয়েন্দাপ্রধান মিশেল সেনসি-কন্তুজি ও তাঁর স্ত্রী স্টেফানি হলিহান। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো অন্য পাঁচজন মার্কিন নাগরিক বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
কেনিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটিতে থাকা ব্যক্তিরা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকার প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে সাফারি ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আনন্দের ভ্রমণ অল্প সময়ের মধ্যেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পরিণত হয়।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের বেশ কিছু ছবি প্রকাশিত হয়েছে। সেসব ছবিতে মাউন্ট ওলোলোকওয়ের বনাঞ্চলে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। উদ্ধারকর্মীরা তখনও ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুনে জ্বলতে থাকা ধ্বংসাবশেষের কাছে কাজ করছিলেন।
মিশেল সেনসি-কন্তুজির বয়স ছিল ৪৪ বছর। ২০২৪ সালে তাঁকে ইকুয়েডরের কৌশলগত গোয়েন্দা কেন্দ্রের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় ইকুয়েডর সরকার গভীর শোক জানিয়েছে।
তবে দুর্ঘটনার কারণ বা কীভাবে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হলো, সে বিষয়ে ইকুয়েডর সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় গোয়েন্দাপ্রধানের মৃত্যুতে আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রকাশ করেছে।
সেনসি-কন্তুজির সঙ্গে তাঁর স্ত্রী স্টেফানি হলিহানও দুর্ঘটনায় নিহত হন। একই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচ মার্কিন নাগরিক।
দুর্ঘটনায় নিহত মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে একজন হলেন এনবিসি ইউনিভার্সালের সাংবাদিক হোসে আলবের্তো সুয়ারেজ। বাকি চার মার্কিন নাগরিকের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
হেলিকপ্টারটি কেনিয়ায় পর্যটনভ্রমণের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে জানা গেছে। সামবুরু অঞ্চল বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। সেখানে পর্যটকেরা প্রায়ই বন্যপ্রাণী দেখার পাশাপাশি আকাশপথে বিস্তীর্ণ সংরক্ষিত এলাকা ঘুরে দেখেন।
তবে বুধবারের এই ভ্রমণ ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শেষ হয়। হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার আনন্দভ্রমণ এভাবে সাতটি প্রাণ কেড়ে নেওয়ায় কেনিয়ার পর্যটনভিত্তিক আকাশযাত্রার নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

