মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের পশ্চিমাঞ্চলে একটি স্বর্ণখনিতে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ১০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্যামেরুন সীমান্তের কাছাকাছি জামবোই এলাকায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ধসে পড়া মাটির স্তূপ সরিয়ে এখন পর্যন্ত ১০৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ চলতে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের জামবোই এলাকায়। অঞ্চলটি ক্যামেরুন সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় দুর্ঘটনায় দুই দেশের মানুষেরই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, খনির একটি বড় অংশ হঠাৎ ধসে পড়লে সেখানে কর্মরত অনেক শ্রমিক মাটির নিচে চাপা পড়েন।
এক খনি শ্রমিক সেড্রিক এমবাঙ্গো জানিয়েছেন, ধসের পর খনির মাটি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে এবং বহু মানুষ চাপা পড়েন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখনো কয়েকজন মাটির নিচে আটকা থাকতে পারেন। ফলে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের সন্ধান এবং মরদেহ উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
দুর্ঘটনায় ক্যামেরুনের নাগরিকেরাও প্রাণ হারিয়েছেন। ক্যামেরুনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের গভর্নর গ্রোগোয়ার মভঙ্গো দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন ক্যামেরুনের নাগরিক রয়েছেন। তাদের মরদেহ নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া আহত ব্যক্তিদের দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের বাবুয়া শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে বাবুয়ার সরকারি কৌঁসুলির প্রাথমিক ধারণা, শ্রমিকেরা কাজ করার সময় খনির কয়েকটি ভূগর্ভস্থ সুরঙ্গ একসঙ্গে ভেঙে পড়ার কারণেই বড় ধরনের ধসের সৃষ্টি হতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
জামবোইসহ এই অঞ্চলে প্রচলিত পদ্ধতিতে স্বর্ণ আহরণ স্থানীয় মানুষের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। অনেক মানুষ জীবিকার জন্য এসব খনির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার কারণে খনি শ্রমিকদের প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হয়।
এর সঙ্গে বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিও পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে মাটি নরম ও দুর্বল হয়ে পড়লে ভূগর্ভস্থ কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। ফলে যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া পরিচালিত খনিগুলোতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়।
জামবোইয়ের এই দুর্ঘটনাও সেই ঝুঁকির ভয়াবহ দিকটি সামনে এনেছে। উদ্ধারকাজ এখনো শেষ না হওয়ায় মাটির নিচে আর কেউ আটকা আছেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

