আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে বসতে যাচ্ছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। বিশ্বনেতা ও বিদেশি প্রতিনিধিদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতির মধ্যেই রাজধানীর দুই পাঁচতারকা হোটেলের রান্নাঘর ও খাবার সংরক্ষণের ব্যবস্থাপনা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
দিল্লির অ্যারোসিটি এলাকার আন্দাজ দিল্লি ও জেডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ও পচা খাবার, তেলাপোকা এবং মাছির উপস্থিতি পেয়েছে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। এসব অনিয়মের ঘটনায় দুই হোটেলকেই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। এই দুই হোটেল ব্রিকস বিজনেস ফোরামের ওয়েবসাইটে বিদেশি প্রতিনিধিদের আবাসন ও সম্মেলনের ভেন্যু হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। ব্রিকস বিজনেস ফোরাম জোটটির বেসরকারি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিদর্শনের সময় দুই হোটেল থেকেই বিভিন্ন খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষার ফল এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের জবাব পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে অভিযানটি ঠিক কবে পরিচালনা করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
আন্দাজ দিল্লিতে ৮৭ কেজি মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি
হায়াত গ্রুপ পরিচালিত আন্দাজ দিল্লি হোটেলের মিষ্টি তৈরির বিভাগে গিয়ে কর্মকর্তারা প্রায় ৮৭ কেজি মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি পান। পরে সেগুলো ধ্বংস করে ফেলা হয়। একই সঙ্গে মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া পাউরুটি ও কেকের বেসও পাওয়া গেছে।
হোটেলের পেস্ট্রি বিভাগ ও রান্নাঘরের পরিবেশ নিয়েও সন্তুষ্ট হতে পারেননি পরিদর্শকরা। সেখানে অসংখ্য মাছি ও তেলাপোকা দেখা যায়। পাশাপাশি নিরামিষ ও আমিষ খাবার আলাদা রাখার নিয়মও যথাযথভাবে মানা হচ্ছিল না।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দুই ধরনের খাবার কাটার জন্য ব্যবহৃত চপিং বোর্ড একই পানির পাত্রে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল। এতে খাবারের মধ্যে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেডব্লিউ ম্যারিয়টেও গুরুতর অনিয়ম
অন্যদিকে জেডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে আরও বেশ কিছু অভিযোগ। পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় খুচরা লাইসেন্স ছাড়াই হোটেলটির রিটেইল কার্যক্রম চলছিল।
হোটেলের পনির, খোয়া ক্ষীর ও চানা মসলাসহ কয়েক ধরনের ফ্রোজেন খাবারের প্যাকেটেও ত্রুটি পাওয়া যায়। এসব পণ্যে প্রস্তুতকারকের ঠিকানা উল্লেখ ছিল না এবং লাইসেন্স নম্বরেও অসঙ্গতি ছিল।
রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধির অবস্থাও ছিল উদ্বেগজনক। কর্মকর্তারা সেখানে জীবন্ত তেলাপোকা ও ফলের মাছির উপস্থিতি দেখতে পান। অপরিষ্কার জায়গায় খাবার রাখা ছিল এবং রান্নার বাসনপত্রও যথাযথভাবে পরিষ্কার করা হয়নি।
এমনকি রান্না ও পানির জন্য ব্যবহৃত জারেও ধুলা-ময়লা ভাসতে দেখা গেছে। পরিদর্শকদের মতে, এসব বিষয় হোটেলের পরিচ্ছন্নতা ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।
পচা ফল ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে খাবার সংরক্ষণ
অভিযানে জেডব্লিউ ম্যারিয়টের রান্নাঘর থেকে পচা আপেল ও টমেটোও উদ্ধার করা হয়। ফ্রিজের ভেতরে খাবার রাখা ছিল ঢাকনাবিহীন ও ভাঙা পাত্রে।
এ ছাড়া নিরামিষ ও আমিষ খাবার একসঙ্গে রাখা এবং খাবার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় না রাখার বিষয়টিও ধরা পড়ে। খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের মতে, এসব কারণে খাবারে ব্যাকটেরিয়াজনিত দূষণের গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে ব্রিকস সম্মেলনের আগে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ দুটি হোটেলে এমন অনিয়মের ঘটনা তাই আয়োজকদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন নজর থাকবে নমুনা পরীক্ষার ফল এবং দুই হোটেল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার ওপর।

