নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে থাকার পর ৯৭ বছর বয়সি এক বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মধ্যে এই উদ্ধার অভিযান স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধার নাম গুনা মায়া বোহারা। তিনি একটি বৃদ্ধনিবাসে থাকতেন। আকস্মিক বন্যার পানির স্রোতে ওই ভবনটি ধসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলে তার নিচেই আটকা পড়েন তিনি। দীর্ঘ সময় পর উদ্ধারকারীরা তাকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পান।
পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
গুনা মায়াকে উদ্ধারের খবর পেয়ে কাঠমান্ডু থেকে ছুটে যান তার প্রপৌত্র দীপক বোহারা। বিবিসি নেপালিকে তিনি বলেন, উদ্ধারকারীরা যখন তার প্রিয়জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনেন, তখন তাকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন যুদ্ধ জয় করে ফেরা এক যোদ্ধা।
উদ্ধার অভিযানে খননযন্ত্র ব্যবহার করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তাকে নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। এ সময় চারপাশে বন্যার পানির স্রোত ও ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষের কারণে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে নেপাল ও প্রতিবেশী তিব্বতের হিমালয় সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দেয়। বুধবার ২৬ আগস্ট উপত্যকাগুলোতে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত নেমে আসে। এতে বহু ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিজ্ঞানী ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, কোনো হিমবাহ কিংবা বিপুল পরিমাণ বরফ-পাথরের স্তর ধসে পড়ার কারণেই এই ভয়াবহ পানির স্রোতের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে দুর্যোগের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।
নেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের দুই পাশেই এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংস হয়ে যাওয়া সড়ক, অস্থিতিশীল ভূমি এবং নতুন করে বন্যার আশঙ্কার কারণে উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এমন ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে প্রায় চার ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকার পর ৯৭ বছর বয়সি গুনা মায়ার জীবিত উদ্ধার হওয়ার ঘটনা তাই শুধু একটি সফল উদ্ধার অভিযান নয়, বরং দুর্যোগের মাঝেও বেঁচে থাকার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

