যুক্তরাজ্যের এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় দেখা দেওয়া কারিগরি বিপর্যয়ের কারণে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়ে পড়েছে, যার প্রভাবে চরম বিড়ম্বনার মুখে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। বুধবারও পরিস্থিতির উন্নতির কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি, বরং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নতুন করে বিলম্ব ও সিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
একটি স্বীকৃত ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, দেশের এয়ার ট্রাফিক সেবাদাতা সংস্থার প্রযুক্তিগত ত্রুটির জেরে প্রায় এক হাজার ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, সংকটের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করা হবে। তিনি স্বীকার করেন, সমস্যার সমাধানে প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি সময় লেগে গেছে।
ঘটনার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী বুধবার সংস্থাটির প্রধান নির্বাহীকে তলব করেছেন। যদিও পার্লামেন্টে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো সাইবার হামলার কারণে এই বিভ্রাট ঘটেনি—এটি নিছক একটি প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা।
যুক্তরাজ্যের আকাশসীমায় সৃষ্ট এই জটিলতার প্রভাব দেশটির সীমানা ছাড়িয়ে পড়েছে আয়ারল্যান্ড ও ইউরোপের অন্য দেশগুলোর বিমানবন্দরেও। যুক্তরাজ্য থেকে ফ্লাইট ছাড়তে না পারায় বিদেশি অনেক উড়োজাহাজও নির্ধারিত সময়ে অবতরণ করতে পারেনি। এই বিপর্যয়ে একটি স্বল্পখরচের এয়ারলাইন প্রায় দুইশ এবং আরেকটি বড় বিমান সংস্থা একশর বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। রাজধানীর প্রধান বিমানবন্দরসহ দেশের আরও কয়েকটি ব্যস্ত বিমানবন্দরে সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, সংস্থাটির প্রযুক্তিগত ব্যর্থতার এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৩ সালেও একটি ছুটির দিনে কারিগরি সমস্যার কারণে লাখ লাখ যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছিলেন। এমন পুনরাবৃত্ত বিভ্রাটের কারণে একাধিক বিমান সংস্থা এই সংস্থাটির পুরো ব্যবস্থাপনা কাঠামো পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে।
বিমানযাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারিগরি সমস্যাটির সমাধান হলেও এতে তৈরি হওয়া বিশাল সূচি-জট কাটিয়ে ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে বেশ কিছুদিন সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, একটি একক প্রযুক্তিগত সংস্থার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার এই ধরনের বারবার বিপর্যয় শুধু যাত্রীদের ভোগান্তিই বাড়ায় না, বরং আন্তর্জাতিক উড্ডয়ন খাতে যুক্তরাজ্যের অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দেয়। ঘন ঘন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হচ্ছে।

