দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে এবার রেকর্ড গড়েছে একটি বিবাহবিচ্ছেদের রায়। সিউল ফ্যামিলি কোর্ট গেমিং জায়ান্ট স্মাইলগেটের প্রতিষ্ঠাতা কওন হিয়ক-বিনকে তার সাবেক স্ত্রী লি হোয়া-জিনকে ২.৫৫ ট্রিলিয়ন ওন বা প্রায় ১৮৭ কোটি ডলার সমমূল্যের সম্পদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগের রেকর্ডের চেয়ে এই অঙ্ক দ্বিগুণেরও বেশি। সম্পদের এই বিভাজন কেবল একটি আইনি নিষ্পত্তি নয়, এটি দক্ষিণ কোরিয়ার পারিবারিক আইনের ইতিহাসে এক মাইলফলক।
আদালত কী নির্দেশ দিয়েছে? কওনকে স্মাইলগেটের ৩৫ শতাংশ শেয়ার লি হোয়া-জিনের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, যার বর্তমান মূল্য প্রায় ২.৫ ট্রিলিয়ন ওন। পাশাপাশি তাকে আরও ৬৫ বিলিয়ন ওন নগদ অর্থ দিতে হবে। আদালত কওনের স্মাইলগেটের মালিকানার মূল্য নির্ধারণ করেছে প্রায় ৭.১ ট্রিলিয়ন ওন। অর্থাৎ কওনের মোট সম্পদের ৩৫ শতাংশ চলে যাচ্ছে তার সাবেক স্ত্রীর কাছে।
কিন্তু কেন এত বড় অঙ্ক? লি হোয়া-জিন আদালতে দাবি করেছিলেন, স্মাইলগেটের ৫০ শতাংশ মালিকানা তার প্রাপ্য। তার আইনজীবীরা যুক্তি দেন, কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠার সময় তিনি অর্থায়নে সহায়তা করেছিলেন। আরও গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার ২০ বছরের বেশি সময় ধরে সন্তানদের লালন-পালন ও সংসার দেখাশোনার ভূমিকা। অন্যদিকে কওনের দাবি ছিল, তার সাবেক স্ত্রী কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেননি এবং সেখানে কাজও করেননি।
আদালতের রায়ের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা লুকিয়ে আছে, দক্ষিণ কোরিয়ার পারিবারিক আইনে ‘গৃহিণীর অবদান’কে সম্পদ সৃষ্টিতে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। লি হোয়া-জিন দীর্ঘদিন সংসার ও সন্তানদের দেখাশোনা করেছেন, আদালত সেই অবদানকে সম্পদ বিভাজনের ক্ষেত্রে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটি শুধু একটি আইনি রায় নয়, সমাজে নারীর অর্থনৈতিক অবদানের স্বীকৃতির প্রতীকও বটে।
এই রায় দক্ষিণ কোরিয়ার আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এর আগে এসকে গ্রুপের চেয়ারম্যান চে তায়ে-উনকে তার সাবেক স্ত্রীকে ৯৪৪ বিলিয়ন ওন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে সুপ্রিম কোর্ট সম্পদের মূল্য নির্ধারণে হিসাবের ভুল উল্লেখ করে সেই রায় বাতিল করে মামলাটি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেন। ব্লুমবার্গের হিসাবে কওনের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার।
উভয় পক্ষই এখন আপিল করতে পারবেন। স্মাইলগেটের এক মুখপাত্র কওনের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি, তবে প্রতিষ্ঠানটি স্বাভাবিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবে বলে জানিয়েছেন। এই রায় চূড়ান্ত হলে তা দক্ষিণ কোরিয়ার কর্পোরেট ও পারিবারিক আইনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

