যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে সংঘাত থেকে সরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম কমার সম্ভাবনা কম। সূত্র: সিএনএন
বুধবার ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী সম্মেলনে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তাঁর দাবি, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ইরান নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
জ্বালানির দাম কবে কমতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে ইরান মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাঁর অভিযোগ, ইরান এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়, যাতে যুক্তরাষ্ট্রে ‘দুর্বল’ একটি রাজনৈতিক নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসে এবং তারা নিজেদের মতো করে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ পেতে পারে।
তবে ট্রাম্প একই সঙ্গে দাবি করেন, ইরান এখন পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই তেহরান সংঘাতের অবসান চাইবে।
তিনি বলেন, ইরান আর বেশিদিন এই পরিস্থিতি ধরে রাখতে পারবে না। যুদ্ধ শেষ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও ব্যাপকভাবে কমে আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষায়, ‘তারা আর টিকতে পারবে না।’
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানে সংঘাত তীব্র হওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি তেলের দামে।
তেলের দাম এভাবে বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানি ব্যয় আরও বাড়তে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুর্বলতায় পরিণত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্প অবশ্য বারবার বলে আসছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কাও তিনি নাকচ করেছেন।
বরং তাঁর দাবি, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকানোর পক্ষে রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে বিষয়টি বোঝানো খুব সহজ। তাঁদের শুধু প্রশ্ন করতে হবে—‘আপনারা কি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেবেন?’ তাঁর মতে, এর উত্তর হবে—‘না’।
ফলে ইরান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও তেলের দাম—এই তিনটি বিষয় এখন শুধু আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

