ইরান যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন এমিরেটস ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (ইএনওসি)-এর এক কর্মকর্তা। সূত্র: রয়টার্স
তার মতে, এই ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত যুদ্ধ ঝুঁকি প্রিমিয়াম এবং কার্গো বীমার খরচের ব্যাপক বৃদ্ধি।
ইএনওসির পরিচালক পল ব্র্যাডশ বলেন, বর্তমানে কার্গো বীমার খরচ পাঠানো পণ্যের মোট মূল্যের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এপেক সম্মেলনে ব্র্যাডশ বলেন, তিনি কার্গো বীমার ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছেন। এর ফলে একটি পণ্যবাহী চালানের বীমা খরচে অতিরিক্ত ১০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত চাপ তৈরি হতে পারে।
তিনি জানান, এর পাশাপাশি জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে যুদ্ধ ঝুঁকি প্রিমিয়ামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ব্র্যাডশ বলেন, আগে কোনো জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচলের জন্য যে অতিরিক্ত হার দিতে হতো তা প্রায় শূন্য ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা কার্গোর মূল্যের ১০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবহন খরচ বেড়ে ১০ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে পৌঁছেছিল। একই সঙ্গে বাজারের কিছু অংশগ্রহণকারী বীমা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য আরও বেশি সংখ্যক জাতীয় তেল কোম্পানি নিজেদের জাহাজ পরিচালনা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ পুনরায় নিজেদের হাতে নিচ্ছে।
ব্র্যাডশ বলেন, “আমরা সম্প্রতি দেখেছি কিছু রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি (এনওসি) নিজেদের জাহাজ চলাচল ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, যাতে এ ধরনের সংঘাতের সময়ে তাদের বেরিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকে।”
তিনি আরও জানান, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে ঝুঁকি গ্রহণে প্রস্তুত জাহাজ মালিকের সংখ্যা সীমিত হয়ে পড়েছে।
চলতি বছরে ইরান যুদ্ধের পর গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ সমুদ্রপথগুলোতে সৃষ্ট বাধার কারণে পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে দীর্ঘ ও জটিল রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে। এর ফলে পণ্য পরিবহনের অর্থনৈতিক কাঠামো এবং জাহাজের প্রাপ্যতার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

