জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত দীর্ঘমেয়াদি বাজেট থেকে শত শত বিলিয়ন ইউরো কমানোর দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলো যখন নিজেদের বাজেটেও ব্যয় কমানোর চাপে রয়েছে, তখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রস্তাবিত বিশাল বাজেট বাস্তবসম্মত ও বহনযোগ্য নয়। সূত্র: রয়টার্স
আগস্টে জার্মানি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া, ফিনল্যান্ড ও সুইডেন কমিশনের প্রস্তাবিত ২০২৮ থেকে ২০৩৪ সালের প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ইউরোর (২ দশমিক ৩৩ ট্রিলিয়ন ডলার) বাজেট কমানোর আহ্বান জানিয়েছিল। দেশগুলো বলেছিল, ব্যয়ের কোনো একটি খাতকে বাদ না দিয়ে সব ক্ষেত্র থেকেই ভারসাম্যপূর্ণভাবে কাটছাঁট করা প্রয়োজন।
বার্লিনে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে বৈঠকের পর মের্জ বলেন, ইউরোপের সামনে এখন বাস্তববাদী অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি সংস্কার করাও জরুরি। তাঁর ভাষ্য, পরবর্তী সাত বছরের জন্য ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত বহুবর্ষীয় আর্থিক কাঠামোতে বর্তমান বাজেট মেয়াদের তুলনায় ব্যয় প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মের্জ বলেন, সব সদস্য রাষ্ট্র যখন নিজ নিজ বাজেটে ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে, তখন এত বড় পরিমাণের বাজেট বৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বা বহনযোগ্য হতে পারে না।
জার্মান চ্যান্সেলর মনে করেন, ইইউর পরবর্তী বাজেটে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে নয়, সব নীতিগত ক্ষেত্রেই ব্যয় কমাতে হবে। একই সঙ্গে বাজেটের ঘাটতি পূরণে ইইউর যৌথ ঋণ আরও বাড়ানোর ধারণাও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মের্জ সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত ঋণের বোঝা ইউরোপের সার্বভৌমত্ব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তাঁর মতে, সরকারগুলোর জন্য এখন সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো সীমিত সম্পদের মধ্যে কোন খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করা।
ইইউর ভবিষ্যৎ বাজেটে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা খাতে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন মের্জ। তাঁর যুক্তি, ইউরোপ বর্তমানে যে ধরনের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তা মোকাবিলায় পুরোনো ধাঁচের বাজেট যথেষ্ট নয়।
তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় ‘বিংশ শতাব্দীর বাজেট’ দিয়ে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহুবর্ষীয় আর্থিক কাঠামো অনুমোদনের জন্য জোটের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মতি প্রয়োজন। ফলে বাজেটের আকার ও কোন কোন খাতে ব্যয় কমানো হবে, তা নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেন, জাতীয় বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। তাঁর মতে, সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব বাজেট সুরক্ষিত রাখতে ইইউকে নতুন ধরনের নিজস্ব রাজস্বের উৎস তৈরি করতে হবে এবং প্রতিটি দেশের জাতীয় বাজেটকে সম্মান করতে হবে।
মের্জ ও কস্তা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইইউর পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি বাজেট নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে।

