ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও, অর্থাৎ ২০২৯ সালের জানুয়ারির পরেও, অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন হোয়াইট হাউসের শীর্ষ উপদেষ্টারা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। ওভাল অফিস ও সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত একান্ত আলোচনায় তারা বলেছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখেও দীর্ঘদিন প্রতিরোধ বজায় রাখতে পারে, যা সংঘাতকে ট্রাম্পের মেয়াদের বাইরেও টেনে নিয়ে যেতে পারে।
তবে জনসমক্ষে ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। বুধবার সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ‘ঠিক পরপরই’ যুদ্ধ শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন। তার যুক্তি, ইরান নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে চাইলেও দেশটি আর বেশিদিন প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে না। ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে, তবে তিনি এই পথকে খুব একটা পছন্দ করছেন না। তার ভাষায়, “আলোচনা হতে পারে, কিন্তু আমরা সেদিকে তাকিয়ে নেই।”
এই বক্তব্যের পেছনে বাস্তবতা কতটা? সংঘাত এখন সাত মাসে পেরিয়েছে। বুধবার ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার পর তারা হরমুজ প্রণালীর কাছে ১০টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র জর্ডানেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যেখানে মার্কিন সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব হামলার জবাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে, ব্রেন্ট ক্রুড প্রথমবারের মতো ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পের জন্য বিষয়টি আরও জটিল। ইরান যুদ্ধ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে তার জনপ্রিয়তা রেকর্ড নিম্নে নেমে এসেছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তার কর্মকাণ্ডে মাত্র ১৭ শতাংশ আমেরিকান সন্তুষ্ট, বরং ৬৯ শতাংশ অসন্তুষ্ট। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে, ঐতিহাসিকভাবেও ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে আসন হারায়। ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন, জ্বালানির দাম নির্বাচনের আগে কমবে না।
তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? ভ্যান্স নিজেও যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে রাজি হননি। সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, “এমন একটি শত্রুর বিরুদ্ধে আমাদের কৌশল ও সময়সীমা লিখে দেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীন হবে, যে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করতে পারে না।” হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন, ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছেন এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধের মাধ্যমে তাদের অর্থনীতিকে কোণঠাসা করে ফেলেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, ট্রাম্প কী করবেন এবং কখন করবেন, তা কেবল তিনিই জানেন। অর্থাৎ, সরকারের ভেতরে ও বাইরে, দুই জায়গাতেই এই যুদ্ধ কতদিন চলবে, তার কোনো নিশ্চিত উত্তর নেই।

