Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বৃহস্পতি, সেপ্টে. 10, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » যে প্রেমকে থামিয়ে দিয়েছিল যুদ্ধ: এক ফিলিস্তিনি কবির সঙ্গে ইসরায়েলি নৃত্যশিল্পীর অসম্ভব প্রেমকাহিনি
    আন্তর্জাতিক

    যে প্রেমকে থামিয়ে দিয়েছিল যুদ্ধ: এক ফিলিস্তিনি কবির সঙ্গে ইসরায়েলি নৃত্যশিল্পীর অসম্ভব প্রেমকাহিনি

    নিউজ ডেস্কসেপ্টেম্বর 10, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    মাহমুদ দারবিশ ও তামার বেন অমি
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ক্লেমঁ জিস

    রিটা ছিলেন একজন ইসরায়েলি নারী। তার প্রকৃত নাম ছিল তামার বেন অমি। ফিলিস্তিনি কবি মাহমুদ দারবিশের মৃত্যুর ১৮ বছর পর ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বার্লিনে ৭৯ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। দারবিশের জীবনের প্রথম প্রেম ছিলেন এই নারী, যাকে কবি বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তুলেছিলেন ‘রিটা’ নামে।

    ১৯৬০-এর দশকের শুরু। ইসরায়েলের হাইফা শহর। সেখানেই তরুণ ফিলিস্তিনি কবি মাহমুদ দারবিশের সঙ্গে পরিচয় হয় এক ইহুদি ইসরায়েলি নৃত্যশিল্পীর। তার নাম তামার বেন অমি। দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর প্রেম। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা, পরিচয়ের বিভাজন এবং যুদ্ধের উত্তেজনায় সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

    এই অসম্ভব প্রেমের স্মৃতি থেকেই দারবিশ লিখেছিলেন তার বিখ্যাত কবিতা ‘রিটা ও রাইফেল’। আরব বিশ্বে আজও এই কবিতা ভালোবাসা, বিচ্ছেদ ও সংঘাতের এক অনন্য প্রতীক হয়ে আছে।

    কবিতার কয়েকটি পঙ্‌ক্তি এমন—

    ‘রিটা আর আমার চোখের মাঝে
    দাঁড়িয়ে আছে একটি রাইফেল
    আর যে রিটাকে চেনে
    সে হাঁটু গেড়ে বসে প্রার্থনা করে
    মধুরঙা চোখের দেবতার কাছে।’

    আরব বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে এই লাইনগুলো পরিচিত। কায়রো থেকে আম্মান, দামেস্ক থেকে বৈরুত—১৯৭০-এর দশক থেকে লেবানিজ সংগীতশিল্পী মার্সেল খলিফার কণ্ঠে ‘রিটা ওয়া আল-বুন্দুকিয়া’ বা ‘রিটা ও রাইফেল’ গানটি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। উদ, পারকাশন ও চেলোর সুরে তিনি গানটি নিয়ে ঘুরেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে।

    দারবিশ লিখেছিলেন—

    ‘আর দুই বছর আমি রিটার মাঝে হারিয়ে ছিলাম/
    দুই বছর সে নিদ্রিতা ছিল আমার বাহুডোরে (…)/
    আমাদের মাঝে এখন লাখো চড়ুই আর স্মৃতির ভিড়/
    আর রাইফেলের গুলিতে ঝাঁঝরা হওয়া অসংখ্য সাক্ষাতের মুহূর্ত।’

    বিটলসের ‘মিশেল’ কিংবা সার্জ গেইনসবার্গের ‘এলিসা’র মতোই রিটা একটি জনপ্রিয় গানের চরিত্র হয়ে ওঠেন। তবে এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, তিনি আরবি সাহিত্যের দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রেমের ধারা ‘গজল’-এর আধুনিক এক প্রতীক।

    মধ্যযুগ থেকে আরবি সাহিত্যে যে ধ্রুপদী প্রেমের কবিতাগুলো বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে, সেগুলোকে গজল বলা হয়। দারবিশের ‘রিটা ও রাইফেল’ মূলত সেই ধারার একটি আধুনিক রূপ। ১৯৬৭ সালে কবিতাটি প্রকাশের পর থেকেই এটি আরব বিশ্বের সাংস্কৃতিক কল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

    মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশিষ্ট গবেষক এবং ‘কম্পাস’ উপন্যাসের জন্য ২০১৫ সালে প্রি গঁকুর পুরস্কার পাওয়া ম্যাথিয়াস এনার্ড বলেন, আরব বিশ্বের যে দেশেই যাওয়া হোক না কেন, এই কবিতা পরিচিত। দুই প্রেমিকের মাঝখানে রাইফেলের দেয়াল তুলে দেওয়ার রূপক এবং লেখার গভীরতা তাকে মুগ্ধ করেছে।

    দারবিশের কবিতার শক্তি অনুভূত হয়েছে মার্সেল খলিফার গায়কিতে এবং আরব বিশ্বজুড়ে প্রচলিত দারবিশের নিজের কণ্ঠে কবিতা পাঠের রেকর্ডিংয়েও। ফিলিস্তিনি ইতিহাসবিদ ইলিয়াস সানবারের ভাষায়, এই অঞ্চলে কবিতা শুধু সাহিত্যিক মহলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সাধারণ মানুষের জীবনেও ছড়িয়ে পড়েছে।

    দারবিশের বন্ধু ও অনুবাদক সানবার স্মৃতিচারণ করে বলেন, বিভিন্ন স্টেডিয়ামে হাজার হাজার মানুষ কবির কবিতা শুনতে আসত। সুদানে তাকে দেখার জন্য মানুষ গাছে উঠে পড়ত, আর আলজেরিয়ায় উচ্ছ্বসিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে নিরাপত্তারক্ষীদের কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হতো।

    মাহমুদ দারবিশ প্রায় ২০টি আরবি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি নিজের সাহিত্যকর্মকে ‘আটলান্টিক মহাসাগর থেকে ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল পরিচয়পত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

    সানবারের মতে, দারবিশ ছিলেন একজন মহান আরব কবি, যার ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি এবং সৃষ্টিশীল ভূদৃশ্যের কেন্দ্রে ছিল ফিলিস্তিন।

    ১৯৪১ সালে ফিলিস্তিনের একর শহরের কাছে আল-বিরওয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দারবিশ। ১৯৪৮ সালে তার পরিবারকে সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয়। পরে লেবাননে আশ্রয় নেওয়ার পর তারা গোপনে নবগঠিত ইসরায়েল রাষ্ট্রে ফিরে আসেন। কিন্তু ফিরে এসে দেখেন, তাদের পুরো গ্রাম ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

    জীবনের প্রায় ৩০ বছর নির্বাসনে কাটিয়েছেন দারবিশ। তিনি প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) সক্রিয় সদস্য ছিলেন। শেকড় হারানোর যন্ত্রণা এবং পরিচয়ের সংকট তার লেখার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে।

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের ভয়াবহ সামরিক অভিযান এবং পশ্চিম তীরে সহিংসতার ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনি শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়। লেখক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ভিজ্যুয়াল আর্টিস্টদের মধ্যে মাহমুদ দারবিশের অবস্থান আবারও আলোচনার কেন্দ্রে আসে।

    দারবিশের প্রকাশক ফারুক মারদাম-বে বলেন, সমসাময়িক কবিদের মধ্যে দারবিশের বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। তার মতে, উনিশ শতকে ভিক্টর হুগোর যে ধরনের জনপ্রিয়তা ছিল, মহান জনমানুষের কবি হিসেবে দারবিশেরও একই ধরনের অবস্থান রয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম পর্যন্ত আজও দারবিশের লেখা ব্যাপকভাবে উদ্ধৃত হয়। তবে ইলিয়াস সানবার সতর্ক করে বলেছেন, অনেকেই দারবিশের সাহিত্যকে নিজেদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে চান। কিন্তু তার কবিতা কোনো রাজনৈতিক ইশতেহার নয়, বরং এটি মানুষের পরিচয়, ভালোবাসা ও অস্তিত্বের এক সর্বজনীন অনুসন্ধান।

    ‘রিটা ও রাইফেল’ নিয়েও একই ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ১৯৯৬ সালের এক সাক্ষাৎকারে দারবিশ বলেছিলেন, তিনি যখনই কোনো প্রেমের কবিতা লেখেন, অনেকেই সেটিকে দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখেন। ‘রিটা’কে অনেকে ফিলিস্তিনের প্রতীক মনে করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

    সাক্ষাৎকারটি পরে ২০০২ সালে ‘লা প্যালেস্টাইন কোমে মেটাফোর’ সংকলনে প্রকাশিত হয়। সেখানে দারবিশ স্পষ্ট করে বলেন, রিটা একটি ছদ্মনাম হলেও তিনি ছিলেন বাস্তব জীবনের একজন নারী। তিনি ছিলেন একজন ইসরায়েলি ইহুদি।

    ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে ইসরায়েলের হাইফা শহরে দেখা হয়েছিল মাহমুদ দারবিশ ও তামার বেন অমির। ১৯৬০ সালে কবি হাইফায় বসবাস শুরু করেন। কৈশোরেই নির্বাসনের অভিজ্ঞতা পাওয়া দারবিশের জন্য হাইফা ছিল প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের সূচনাস্থল।

    তখন হাইফা ছিল বৈচিত্র্যময় এক বন্দরনগরী। আরব, ইহুদি, আর্মেনীয়, লেবানিজ ও দ্রুজ জনগোষ্ঠীর সহাবস্থানে শহরটি ছিল প্রাণবন্ত ও বহুসাংস্কৃতিক। অন্যদিকে তেল আবিবে তখন নতুন ইসরায়েল রাষ্ট্রের আধুনিক অবকাঠামো গড়ে উঠছিল। কিন্তু হাইফার পুরোনো শহরজুড়ে তখনও ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মিশ্র উপস্থিতি ছিল স্পষ্ট।

    তরুণ দারবিশ তখন কবিতা লিখতেন এবং মঞ্চে নিজের লেখা আবৃত্তিও করতেন। সাহিত্য পত্রিকায় নিয়মিত তার লেখা প্রকাশিত হচ্ছিল। পাশাপাশি তিনি রাজনীতি নিয়েও লিখতেন। তার এই রাজনৈতিক অবস্থান এবং ‘বিপ্লবী’ বক্তব্যের কারণে ১৯৬১ থেকে ১৯৬৭ সালের মধ্যে তাকে পাঁচবার কারাবরণ করতে হয়।

    ইসরায়েলি কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। এই আন্দোলনের বিভিন্ন আয়োজনে আরব, ইহুদি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে অংশ নিত।

    ১৯৬৩ সালের একদিন হাইফার কাছের আরব ও দ্রুজ অধ্যুষিত শহর শেফা আমরে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন দারবিশ। সেখানে তিনি মঞ্চে উঠে কয়েকটি কবিতা আবৃত্তি করেন। এরপর মঞ্চে আসে একদল নৃত্যশিল্পী। সেই দলের একজন তরুণীর দিকে চোখ আটকে যায় কবির। তিনি ছিলেন তামার বেন অমি।

    তখন দারবিশের বয়স ২২ বছর, আর বেন অমির বয়স মাত্র ১৬। হাইফাতেই বেড়ে ওঠা এই তরুণী ছিলেন ‘সাবরা’—অর্থাৎ ১৯৪৮ সালের আগে ব্রিটিশ ম্যান্ডেটভুক্ত ফিলিস্তিনে জন্ম নেওয়া ইহুদিদের বলা হতো এই নামে। তার বাবা-মা হলোকাস্টের আগেই পোল্যান্ড ও রাশিয়া থেকে এসে সেখানে বসতি স্থাপন করেছিলেন।

    বেন অমির পরিবার ছিল কমিউনিস্ট মতাদর্শে বিশ্বাসী। দারবিশ ও বেন অমির কয়েকবার দেখা হওয়ার পর ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

    দারবিশ তাকে নিয়মিত দীর্ঘ চিঠি লিখতেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই চিঠিগুলো লেখা হতো হিব্রু ভাষায়। এই ভাষার ওপর তার ভালো দখল ছিল এবং তিনি কখনোই হিব্রুকে প্রত্যাখ্যান করেননি।

    দারবিশ বলতেন, যে পুলিশ কর্মকর্তা তাকে গ্রেপ্তার করেছে কিংবা যে বিচারক তাকে সাজা দিয়েছেন, হিব্রু তাদের ভাষা হতে পারে। কিন্তু একই ভাষায় একজন শিক্ষক তার মধ্যে সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করেছিলেন। হিব্রু ভাষার মাধ্যমেই তিনি ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা ও পাবলো নেরুদার সাহিত্য আবিষ্কার করেছিলেন।

    এই কারণেই ইহুদিদের বিষয়ে তার কোনো একপেশে বা পূর্বনির্ধারিত ধারণা ছিল না। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার জটিলতার মধ্যেও তিনি মানুষের সম্পর্ককে আলাদা করে দেখতেন।

    তবে ভালোবাসা ব্যক্তিগত হলেও রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে মুক্ত ছিল না। আরব-ইসরায়েলি সংঘাতের বাস্তবতায় তাদের সম্পর্ক ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে।

    আরব-ইসরায়েলি চলচ্চিত্র নির্মাতা ইবতিসাম মারা’আনার মতে, তামারের পরিবার শান্তি চাইলেও ফিলিস্তিনি জামাই মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না। দারবিশের কাছ থেকে দূরে রাখতে ১৯৬৪ সালে তামারকে নাচ শেখার জন্য জেরুজালেমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

    দারবিশ তখন তাকে আবেগপূর্ণ চিঠি লিখতেন। তার কাছে ছুটে যেতে চাইলেও তৎকালীন ইসরায়েলি আইনে আরব নাগরিকদের চলাফেরায় কঠোর বিধিনিষেধ ছিল। কোনো জায়গায় যেতে হলে তাদের অনুমতির প্রয়োজন হতো।

    এই বাধা উপেক্ষা করে দারবিশ অবৈধভাবে জেরুজালেমে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেখানে একটি কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও প্রিয় মানুষটির সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।

    হাইফায় ফিরে আসার পর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিচারের পর আবারও কারাগারে পাঠানো হয়।

    অন্যদিকে জেরুজালেমে থাকা তামার বুঝতে পারছিলেন না এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী। এই প্রেম তার কাছে একই সঙ্গে গভীর ও কঠিন হয়ে উঠেছিল। পরে মারা’আনাকে তিনি বলেছিলেন, “ও আমার হৃদয়ে ছিল, কিন্তু জীবনে ছিল না।”

    দারবিশ তাকে জানিয়েছিলেন, তাদের এই প্রেমের গল্প নিয়ে তিনি একটি দীর্ঘ কবিতা লিখছেন।

    এরপর ১৯৬৭ সালের জুনে শুরু হয় ছয় দিনের যুদ্ধ। এই যুদ্ধে ইসরায়েল গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়। একই সঙ্গে মিশরের সিনাই উপদ্বীপ এবং সিরিয়ার গোলান মালভূমিও দখলে নেয় ইসরায়েল।

    এই যুদ্ধ তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপরও চূড়ান্ত প্রভাব ফেলে।

    যুদ্ধের কয়েক দিন পর ইসরায়েলি নৌবাহিনীর অর্কেস্ট্রা দলের সামরিক দায়িত্ব শেষ করেন তামার বেন অমি। এই দলটি ইসরায়েলি সেনাদের মনোবল বাড়াতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান ও নাচ পরিবেশন করত।

    ইসরায়েল রাষ্ট্র তখনও নতুন। যুদ্ধের আবেগে জাতীয়তাবাদী অনুভূতি তীব্র হয়ে উঠেছিল। সেনাবাহিনী, দেশ এবং নতুন রাষ্ট্র নির্মাণের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে ওই দলের গানগুলো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

    একটি সাদাকালো ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি যুদ্ধজাহাজের ডেকে অন্য নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে পারফর্ম করছেন বেন অমি।

    তার বন্ধু লেখক ও পরিচালক ওর্না আকাদ জানান, শান্তিবাদী মনোভাবের কারণে চাইলে বেন অমি সামরিক দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তার পরিবারের কমিউনিস্ট আদর্শ দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা এবং সেনাবাহিনীর প্রতিও দায়িত্ববোধ তৈরি করেছিল।

    প্রেমিকাকে ইসরায়েলি সামরিক পোশাকে দেখে দারবিশ গভীর কষ্ট পেয়েছিলেন। তিনি তামারকে লিখেছিলেন—

    “আমি তোমার মাঝে কেবল এক অপরাধীকে দেখতে পাচ্ছি। আমি হয়তো তোমার রূপ, তোমার কোমলতা ভুলেই গেছি।”

    পরে এক সাক্ষাৎকারে দারবিশ বলেন, ১৯৬৭ সালের যুদ্ধ রূপক অর্থে “দুটো শরীরের মাঝখানে এসে দাঁড়িয়েছিল।” এতদিন যে বিভাজন অবচেতন মনে ছিল, যুদ্ধ সেটিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

    তিনি আরও বলেন, একজন প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্ক রাখা কতটা কঠিন হয়ে পড়ে, যখন সেই প্রেমিকা এমন একটি সেনাবাহিনীর সদস্য, যে বাহিনী আপনার জনগণের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।

    এই অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় ‘রিটা ও রাইফেল’।

    কবিতায় তিনি লিখেছিলেন—

    “আহ রিটা!
    এই রাইফেলের আগে আর কী ছিল, যা তোমার চোখ থেকে আমার চোখ ফেরাতে পারত
    হয়তো এক-আধটুকরো ঘুম অথবা মধুরঙা মেঘমালা ছাড়া?”

    ১৯৬৭ সালে ‘এন্ড আ দ্য নাইট’ কাব্যগ্রন্থে প্রকাশের পর কবিতাটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। একই সময় শুরু হয় দারবিশের দীর্ঘ নির্বাসন জীবন।

    ১৯৭১ সালে বৃত্তি নিয়ে তিনি মস্কোয় যান। এরপর আর নিজ দেশে ফিরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তিনি কায়রো এবং সেখান থেকে বৈরুতে চলে যান।

    তখন লেবাননের রাজধানী বৈরুত ছিল ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বাধীন পিএলওর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। দারবিশ এই সংগঠনে যোগ দেন।

    ১৯৭৬ সালে তিনি সিরীয় ইতিহাসবিদ ও বুদ্ধিজীবী রানা কাব্বানিকে বিয়ে করেন। রানা ছিলেন বিখ্যাত আরব কবি নিজার কাব্বানির ভাতিজি। তবে সেই বিয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

    ১৯৭৮ সালে তারা আবার বিয়ে করলেও শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদ ঘটে। পরে দারবিশ মিশরীয় অনুবাদক হায়াত হিনির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন, কিন্তু সেই সম্পর্কও টেকেনি। তার কোনো সন্তান ছিল না।

    ১৯৮২ সাল পর্যন্ত বৈরুতে ছিলেন দারবিশ। ওই বছর লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হলে পিএলও নেতৃত্ব তিউনিসিয়ায় চলে যায়। দারবিশও সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে উত্তর আফ্রিকায় চলে যান। পরে তিনি প্যারিসে বসবাস শুরু করেন।

    এরপর পিএলওর বিভিন্ন রাজনৈতিক কংগ্রেসে বক্তৃতা দিতে তিনি প্রায়ই ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে যাতায়াত করতেন।

    কবিতা নিয়ে বিতর্ক

    সময় গড়াতে গড়াতে মাহমুদ দারবিশ ও তামার বেন অমি একে অপরের জীবন থেকে দূরে সরে যান। অন্যদিকে বেন অমি নিজের জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করেন। তিনি মার্কিন আধুনিক নৃত্যের পথিকৃৎ মার্থা গ্রাহামের সহ-প্রতিষ্ঠিত বাতশেভা ড্যান্স কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হন।

    নিউইয়র্কের অ্যাভঁ-গার্দ শিল্পধারা, তাই চি ও যোগব্যায়ামের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার। টেলিভিশনের বিভিন্ন ভ্যারাইটি শোতে কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি শিক্ষকতাও শুরু করেন জেরুজালেম একাডেমি অব মিউজিক অ্যান্ড ড্যান্সে।

    তার একসময়ের ছাত্র হোফেশ শেকতার পরে সমসাময়িক বিশ্বের অন্যতম পরিচিত কোরিওগ্রাফার হয়ে ওঠেন। প্যারিসের থিয়েটার দে লা ভিলের নিয়মিত শিল্পী হিসেবে পরিচিত শেকতার বলেন, বেন অমি ছিলেন অসাধারণ একজন শিক্ষক। তার মতে, আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে বেন অমির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

    শেকতারের স্মৃতিতে বেন অমি ছিলেন এক “অবিশ্বাস্য ক্যারিশম্যাটিক নারী”, যার মধ্যে ছিল সাহসী ও স্বাধীন এক ব্যক্তিত্ব।

    যুদ্ধ একসময় কবি ও নৃত্যশিল্পীকে আলাদা করে দিয়েছিল। কিন্তু দুই দশক পর সেই যুদ্ধেরই রাজনৈতিক অভিঘাত তাদের আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

    ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে গাজায় প্রথম ইন্তিফাদা শুরু হয়। দ্রুত তা পশ্চিম তীরেও ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় প্যারিসে থাকা দারবিশ লেখেন তার বিখ্যাত কবিতা ‘দোজ হু পাস বিটুইন ফ্লিটিং ওয়ার্ডস’।

    কবিতায় তিনি লিখেছিলেন—

    “সুতরাং, ছেড়ে যাও আমাদের দেশ
    আমাদের ভূমি, আমাদের সমুদ্র
    আমাদের গম, আমাদের লবণ, আমাদের ক্ষত
    সবকিছু, আর সঙ্গে নিয়ে যাও
    স্মৃতির যত স্মৃতি।”

    ১৯৮৮ সালের ১৭ মার্চ ইসরায়েলি দৈনিক ‘মারিভ’-এর প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয় দারবিশের ছবি। শিরোনাম ছিল তীব্র রাজনৈতিক অভিযোগে ভরা। সেখানে বলা হয়, পিএলওর সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা হিসেবে দারবিশ ফিলিস্তিনিদের ইহুদিদের সমুদ্র থেকে জর্ডান পর্যন্ত তাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    প্রতিবেদনটির সঙ্গে কবিতাটির একটি অনুবাদও প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে সেখানে এমন কোনো আহ্বানের উল্লেখ ছিল না। কিন্তু ওই শিরোনামই ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করে।

    ‘নদী থেকে সমুদ্র পর্যন্ত’—এই শব্দবন্ধ পরবর্তী সময়ে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত স্লোগানে পরিণত হয়। তবে এর ব্যাখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।

    ১৯৭৭ সালে ইসরায়েলের ডানপন্থি দল লিকুদের অন্যতম স্লোগান ছিল এটি, যার লক্ষ্য ছিল বৃহত্তর ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা। অন্যদিকে বামপন্থি দল ও গোষ্ঠীগুলোও দীর্ঘদিন ধরে জাতি ও ধর্ম নির্বিশেষে দ্বি-জাতীয় রাষ্ট্রের দাবির অংশ হিসেবে এই শব্দ ব্যবহার করেছে।

    হামাসের মতো ইসলামপন্থি সংগঠনও পরবর্তী সময়ে এই শব্দ ব্যবহার করেছে, যাদের লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান। তবে দারবিশের ওই কবিতায় এই শব্দবন্ধের অস্তিত্ব ছিল না।

    পরদিন ইসরায়েলি দৈনিক ‘হারেৎজ’-এ দারবিশ এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার দাবি ছিল কেবল অধিকৃত অঞ্চল থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।

    তবে রাজনৈতিক মহল এই ঘটনাকে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে।

    ১৯৮৮ সালের এপ্রিলের শেষে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইৎজহাক শামির বলেন, যাদের দেখার চোখ ও শোনার কান আছে, তাদের এমন এক সন্দেহভাজন কবির কথার প্রয়োজন নেই, যিনি নাকি ইসরায়েলিদের দেশ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    ১৯৯৮ সালের তথ্যচিত্র ‘মাহমুদ দারবিশ: অ্যাজ দ্য ল্যান্ড ইজ দ্য ল্যাঙ্গুয়েজ’-এর পরিচালক সিমোন বিটন ১৯৮৮ সালের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন, সে সময় ইসরায়েলি বামপন্থিরা যেমন ভীত ছিল, তেমনি নীরবও ছিল।

    দারবিশের বন্ধু, লেখক ও চিন্তাবিদদের অনেকেই তখন প্রকাশ্যে তার পক্ষে কথা বলেননি।

    ফরাসি প্রকাশনা সংস্থা ‘এডিশনস ডি মিনুইট’ থেকে প্রকাশিত ‘প্যালেস্টাইন মাই কান্ট্রি—দ্য পোয়েম কন্ট্রোভার্সি’ বইয়ের মুখবন্ধে পরিচালক জেরোম লিন্ডন লিখেছিলেন, অনেকে মনে করেন দখলদারিত্বের কারণে ইসরায়েল তার আত্মা হারিয়েছে। তবে যে দেশ দারবিশের সমর্থকদের জন্ম দিতে পারে, সেই দেশেই ন্যায়বিচার ও শান্তির ভবিষ্যৎ লুকিয়ে থাকতে পারে।

    এই সময়েই নীরবতা ভাঙেন তামার বেন অমি।

    প্রথম ইন্তিফাদা যখন তুঙ্গে, তখন এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে এসে তিনি জানান, একসময় তিনি দারবিশকে ভালোবাসতেন। তিনি বলেন, মানুষটি ঘৃণার নয়, ভালোবাসার।

    তার এই বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। প্যারিসে থাকা দারবিশও প্রাক্তন প্রেমিকার এই সাহসিকতার খবর জানতে পারেন। তিনি তাকে ফোন করে ধন্যবাদ জানান এবং ফ্রান্সে আসার আমন্ত্রণ জানান।

    তবে নির্দিষ্ট কোনো সাক্ষাতের সময় ঠিক হয়নি।

    প্যারিসের একটি ছোট হোটেলে উঠেছিলেন বেন অমি। দারবিশের দেওয়া নম্বরে ফোন করলেও প্রথমে কোনো উত্তর পাননি। প্রতিদিন চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পর এক সপ্তাহের বেশি সময় পরে ফোনের ওপাশে এক অপরিচিত নারীর কণ্ঠ শোনা যায়।

    পরদিন তাকে সেখানে যেতে বলা হয়। ওই ভবনে, যা সম্ভবত নির্বাসিত পিএলওর কোনো কার্যালয় ছিল, বহু বছর পর আবার দেখা হয় দারবিশ ও বেন অমির।

    তারা কিছুক্ষণ কথা বলেন। কিন্তু হঠাৎ একটি ফোন আসে। ফোনটি করেছিলেন ইয়াসির আরাফাত।

    দারবিশ তখন পরদিন আবার দেখা করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু পরে ফোন করে জানান, তার পক্ষে আর দেখা করা সম্ভব হবে না।

    তিনি বেন অমিকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, তাদের মাঝে অনেক বছর কেটে গেছে।

    অশ্রুসিক্ত চোখে ইসরায়েলে ফিরে যান বেন অমি।

    আজীবন তিনি বিশ্বাস করতেন, এই সাক্ষাৎ অসম্পূর্ণ থাকার পেছনে পিএলওর ভূমিকা ছিল। হয়তো তারা তাকে সন্দেহ করেছিল, অথবা একজন ইসরায়েলি নারীর সঙ্গে দারবিশের দেখা রাজনৈতিকভাবে সমস্যার কারণ হতে পারে বলে মনে করেছিল।

    ততদিনে দারবিশ শুধু কবি ছিলেন না, তিনি ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। পিএলওর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রও লিখেছিলেন।

    সেই ঘোষণাপত্রে ফিলিস্তিনকে “মানবতার প্রতি অবতীর্ণ ঐশ্বরিক বার্তার ভূমি” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

    ১৯৮৮ সালের ১৫ নভেম্বর আলজিয়ার্সে প্যালেস্টিনিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিলের বিশেষ অধিবেশনে ইয়াসির আরাফাত এই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।

    শেষ বিদায়ে আসেননি বেন অমি

    ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে জার্মানি সফরে যান তামার বেন অমি। সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি। বার্লিনের একটি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং প্রেমে পড়েন পূর্ব জার্মানির স্টেজ ম্যানেজার আন্দ্রেয়াস অ্যাপেল্টের।

    পরে তিনি হাসতে হাসতে বলেছিলেন, “আমি একজন ইসরায়েলি ইহুদি, অথচ ভালোবেসেছি দুজন মানুষকে। একজন ফিলিস্তিনি, অন্যজন জার্মান।”

    তার স্বামী অ্যাপেল্ট ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বরের সেই দিনের কথা স্মরণ করেন, যেদিন ইসরায়েল ও পিএলওর মধ্যে অসলো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

    ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসের লনে ইয়াসির আরাফাত ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ইৎজহাক রবিনের ঐতিহাসিক করমর্দন দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন বেন অমি।

    অ্যাপেল্ট বলেন, তারা তখন বার্লিনে ছিলেন। শান্তির সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তেল আবিবে থাকতে না পারায় বেন অমি হতাশ হয়েছিলেন।

    দুই বছর পর রবিন হত্যাকাণ্ডের দিনও তার গভীর বিষাদের কথা স্মরণ করেন অ্যাপেল্ট।

    অন্যদিকে দারবিশের কাছে অসলো চুক্তি ছিল এক জটিল রাজনৈতিক ঘটনা। চুক্তিটি যথেষ্ট নয় মনে হওয়ায় তিনি পিএলওর কার্যনির্বাহী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন।

    ফরাসি দৈনিক ‘ল্য মঁদ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, এই চুক্তির পুরো দায়ভার তিনি নিতে চান না।

    চুক্তির পর মানুষের উচ্ছ্বাসকে তিনি কিছুটা অতিরঞ্জিত এবং উদযাপনকে তাড়াহুড়ো বলে মনে করেছিলেন।

    তবে এই চুক্তির কারণেই তিনি নিজের জন্মভূমিতে ফেরার সুযোগ পান।

    ১৯৯৫ সালে প্রথমবারের মতো তিনি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ফিরে আসেন। কয়েক দিনের জন্য মায়ের সঙ্গে দেখা হয় তার। এরপর স্থায়ীভাবে পশ্চিম তীরের রামাল্লায় ফিরে যান।

    ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রিত এই অঞ্চলে ফিরে এসে তার মধ্যে এক ধরনের “প্রত্যাবর্তনের বিভ্রান্তি” তৈরি হয়। পরিচিত মাটিও যেন অচেনা মনে হচ্ছিল তার কাছে।

    এরপর তার সময় কাটত রামাল্লা ও জর্ডানের আম্মানের মধ্যে। তবে তিনি নিয়মিত প্যারিসেও যেতেন।

    ২০০৮ সালের আগস্টের শুরুতে উত্তর জার্মানির এলবে নদীর তীরের একটি গ্রামে স্বামী অ্যাপেল্টকে নিয়ে ছুটি কাটাচ্ছিলেন বেন অমি।

    ইসরায়েলে থাকা বন্ধুদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ওপেন-হার্ট সার্জারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দারবিশ।

    ওই এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল ছিল। জঙ্গলের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে কিছুটা সিগন্যাল পাওয়া যেত।

    সেখানেই দাঁড়িয়ে তিনি খবর পান—২০০৮ সালের ৯ আগস্ট মাহমুদ দারবিশ মারা গেছেন।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    ইরানের সঙ্গে সংঘাত ২০২৯ সালের পরও চলতে পারে, ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন উপদেষ্টারা

    সেপ্টেম্বর 10, 2026
    আইন আদালত

    ‘হাওল’: যে কবিতা আদালতে লড়াই করে বদলে দিয়েছিল আমেরিকার মতপ্রকাশের সীমানা

    সেপ্টেম্বর 10, 2026
    আন্তর্জাতিক

    কম পানিতেই সোনালী ধান চাষের নতুন প্রযুক্তি আনছে আইআইটি মাদ্রাজ

    সেপ্টেম্বর 10, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ: বিচার বিভাগে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়

    আইন আদালত সেপ্টেম্বর 10, 2026

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.