যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা কতদিন অবস্থান করতে পারবেন- এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত নতুন বিধি কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে নির্দিষ্ট সময় পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান অব্যাহত রাখতে আলাদাভাবে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা তৈরি হওয়ার কথা ছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বোস্টনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক এফ. ডেনিস সেইলর এই স্থগিতাদেশ দেন। দেশটির কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন ও উচ্চশিক্ষাসংশ্লিষ্ট সংগঠনের জোটের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) নতুন বিধি কার্যকর হওয়ার মাত্র এক দিন আগে আদালত তা আটকে দেন।
ডিএইচএস জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং ভিসা ব্যবস্থায় সম্ভাব্য প্রতারণা ঠেকানোর যুক্তিতে নতুন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
তবে বিচারক সেইলর বলেন, নীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্বেগ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। একই সঙ্গে কম কঠোর বিকল্প ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার যে আইনি দায়িত্ব ছিল, সেটিও সংস্থাটি যথাযথভাবে পালন করেনি।
ভিসা ব্যবস্থায় কী পরিবর্তনের প্রস্তাব ছিল?
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত এফ ভিসা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির আওতায় দেওয়া জে ভিসাধারীরা নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার পরিবর্তে ‘স্ট্যাটাস বজায় রাখা পর্যন্ত’ যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান।
প্রস্তাবিত নতুন নিয়মে এফ ও জে ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছরে সীমাবদ্ধ করার কথা বলা হয়েছিল।
অন্যদিকে, বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য ব্যবহৃত আই ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিনে সীমিত করার প্রস্তাব ছিল। বর্তমানে এই ভিসার আওতায় সাংবাদিকরা তুলনামূলক দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারেন।
বিচারক সেইলর বলেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলে আসা ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন নিয়ম চালু করতে চেয়েছিল হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। তার মতে, এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী, অধ্যাপক ও সাংবাদিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও অর্থনীতিতে প্রভাবের আশঙ্কা
আদালতের নথি অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ এফ ভিসার আওতায় এবং আরও প্রায় ৫ লাখ মানুষ জে ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) ও হার্ভার্ডের মতো গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বিচারক বলেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় কয়েক শ কোটি ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যাও কমে যেতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা খাত এবং অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মামলাকারী সংগঠন প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশনের প্রধান মিরিয়াম ফেল্ডব্লাম বলেন, আদালতের রায় বিদেশি শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করেছে। তিনি বলেন, মামলা চলমান থাকলেও এই আদেশের ফলে দীর্ঘদিনের ব্যবস্থা আপাতত বহাল থাকছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক মেধাবীদের আকর্ষণ, শিক্ষা দেওয়া এবং ধরে রাখার সুযোগ দেবে।
তবে ডিএইচএসের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল আদালতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, এই রায়ের ফলে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার প্রতিরোধ করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

