ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে তিন শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। গত পাঁচ দিনে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। সৌদি আরব হামলা অব্যাহত রাখলে উত্তেজনা আরও বাড়ানো হবে বলে হুমকি দিয়েছে হুথিরা।
সোমবার টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হুথিরা জানায়, সৌদি বিমানবাহিনীর এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, ইউরোফাইটার টাইফুনসহ বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান দিয়ে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
গত দুই সপ্তাহে হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়েছে। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘ সংঘাতের নতুন অধ্যায়
২০১৪ সালে ইয়েমেনে সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ওই সময় হুথিরা রাজধানী সানা এবং দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখলে নেয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতের পরও হুথিদের দমন করা সম্ভব হয়নি। পরে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়।
যুদ্ধবিরতির পর দীর্ঘ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেনি। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে সেই পরিস্থিতির অবসান হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সৌদি বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি হুথিদের
সৌদির বিমান হামলার জবাবে খামিস মুশাইতের বাদশাহ খালিদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথি বিদ্রোহীরা।
তাদের দাবি, ওই হামলায় কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে এবং অস্ত্রভাণ্ডারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তবে হুথিদের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংকট আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

