দুই কোরিয়ার মৈত্রী কার্যালয় ধ্বংসের ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে ৪ হাজার ৪৬০ কোটি ওন (প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত।
বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যম জানিয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে সিউলের করা কোনো মামলায় এটাই প্রথম আদালতের রায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার তৎকালীন রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ইউন সং ইওলের সরকার ২০২৩ সালের জুনে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিল। পরে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাময়িক সামরিক শাসন জারির ঘটনার পর ইউন ক্ষমতাচ্যুত হন।
ইয়োনহাপের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সিউল কেন্দ্রীয় জেলা আদালত দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আদালত সীমান্তবর্তী শহর কেসংয়ে ২০২০ সালে ধ্বংস করা মৈত্রী কার্যালয়ের সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ উত্তর কোরিয়াকে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ছাড়া মামলার সব আইনি খরচও পিয়ংইয়ংকে বহন করতে বলা হয়েছে।
তবে আদালতের এই রায়ের বিষয়ে সিউলের আদালত এবং বেইজিংয়ে অবস্থিত উত্তর কোরিয়ার দূতাবাস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আদালতের রায়কে সম্মান করে এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ পর্যালোচনা করবে। একই সঙ্গে দুই কোরিয়ার মধ্যে বিরোধগুলো সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধানের জন্য আন্তঃকোরীয় আলোচনা পুনরায় শুরুর আশাও প্রকাশ করেছে।
২০২০ সালে ধ্বংস করা হয়েছিল মৈত্রী কার্যালয়
২০২০ সালের ১৬ জুন কেসং শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত দুই কোরিয়ার যৌথ যোগাযোগ কার্যালয়টি ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয় উত্তর কোরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে উত্তর কোরিয়ায় পালিয়ে যাওয়া একদল ভিন্নমতাবলম্বীর সীমান্তে প্রচারপত্র ছড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পিয়ংইয়ং এই পদক্ষেপ নেয়।
ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়া সরকার জানিয়েছিল, ভবন ধ্বংসের পুরো দায় উত্তর কোরিয়ার। সিউলের দাবি ছিল, এই ঘটনা ‘আইনের দৃষ্টিতে স্পষ্টতই অবৈধ’।
২০১৮ সালের পানমুনজম ঘোষণার অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চালু রাখার উদ্দেশ্যে কেসংয়ে এই কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল।
মৈত্রী কার্যালয় ধ্বংসের পাশাপাশি বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত পাশের একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা কেন্দ্রের ক্ষতিপূরণসহ দক্ষিণ কোরিয়া মোট ৪ হাজার ৪৭০ কোটি ওন দাবি করে মামলা করেছিল।
রায় হলেও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা
আইনি লড়াইয়ে দক্ষিণ কোরিয়া জয় পেলেও উত্তর কোরিয়া এই রায় মেনে ক্ষতিপূরণ দেবে—এমন সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
কারণ পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে এই ধরনের রায় কার্যকর করার মতো বাস্তব কোনো ব্যবস্থা বর্তমানে সিউলের হাতে নেই।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে দুই কোরিয়ার মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই রায় এসেছে।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ইতোমধ্যে সিউলের এসব উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিনের পুনরেকত্রীকরণ নীতি থেকে সরে এসে দক্ষিণ কোরিয়াকে দেশটির প্রধান ‘শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
ফলে আদালতের এই রায় আইনি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও দুই কোরিয়ার রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর বাস্তব প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

