রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারত ও চীনের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত মার্কিন শুল্ক আরোপের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। এ-সংক্রান্ত একটি বিল মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়ার পর আগামী ১৮ অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকরের কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাহী আদেশ জারি করে এসব পদক্ষেপের প্রয়োগ মওকুফ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে ভারত, চীনসহ কয়েকটি দেশ আপাতত সম্ভাব্য ১০০ শতাংশ মার্কিন শুল্কের ঝুঁকি থেকে রেহাই পেয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প বলেন, “আমি এতদ্বারা গ্রাহাম অ্যাক্টে উল্লিখিত নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ এবং শুল্কের প্রয়োগ স্থগিত করছি। আমি কংগ্রেসকে এই মর্মে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি যে, এই মুহূর্তে এমন ছাড় দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে।”
আইনটিতে ট্রাম্পকে ৩০ দিনের সময়সীমার মধ্যে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা—চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান—থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া রাশিয়ার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিধানও রাখা হয়েছিল।
কী রয়েছে এই আইনে?
‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট’-এর মূল লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আর্থিক উৎস সংকুচিত করা। এ উদ্দেশ্যে রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক, জ্বালানি খাতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং মস্কোর সামরিক অভিযানকে সহায়তা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়।
আইনটি ট্রাম্পকে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের ক্ষমতাও দিয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর এসব দেশের নির্ভরতা কমানো এবং মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার অর্থায়নে চাপ সৃষ্টি করা। পাশাপাশি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

