চীনের সামরিক কুচকাওয়াজে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের পাশে তার মেয়ে কিম জু আয়েকে দেখা যাওয়ার পর থেকে আবারও জোরালো হয়েছে ভবিষ্যৎ উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা। মঙ্গলবার বেইজিংয়ে লাল গালিচায় চীনা কর্মকর্তাদের করমর্দন করার সময় কিমের পেছনে দাঁড়ানো কালো পোশাকের এই হাস্যোজ্জ্বল তরুণীর উপস্থিতি সবার দৃষ্টি কাড়ে।
ধারণা করা হচ্ছে, তিনিই কিমের রহস্যময়ী কন্যা জু আয়। গত কয়েক বছর ধরে সামরিক অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি নজর কেড়েছে। তবে এবার কিমের বিদেশ সফরে তাকে দেখা যাওয়ায় অনেকেই মনে করছেন, তাকে হয়তো ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
জু আয়ের এটি প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরে তার বাবা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে পাশাপাশি দাঁড়িয়েছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের এমন কূটনৈতিক পরিস্থিতি সামলাতে একদিন হয়তো তাকেও দেখা যেতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের মত। তবে বুধবার তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে শি জিনপিংয়ের সামরিক কুচকাওয়াজের সময় লাল গালিচায় কিমকে দেখা গেলেও জু আয়কে আর দেখা যায়নি।
উত্তর কোরিয়ার এই কন্যা সম্পর্কে খুব কম তথ্য জানা যায়। দীর্ঘদিন ধরে জল্পনা চলার পর ২০২২ সালে প্রথম জনসমক্ষে আসার মধ্য দিয়ে তার অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়। সেই বছর নভেম্বরে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরিদর্শনের সময় তাকে কিমের পাশে দেখা যায়।
২০১৩ সালে পিয়ংইয়ং সফরের সময় মার্কিন বাস্কেটবল তারকা ডেনিস রডম্যান প্রথম কিম পরিবারের শিশুকন্যার কথা প্রকাশ করেন। তিনি তখন বলেছিলেন, তিনি জু আয়কে কোলে নিয়েছিলেন এবং কিমের স্ত্রী রি সোল জুর সঙ্গেও কথা বলেছেন। রডম্যানের সেই সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হয়, জু আয়ের বর্তমান বয়স প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছর। তবে জন্মসাল ও সঠিক বয়স এখনও অজানা।
২০২২ সালে জু আয়কে প্রথমবার বিশ্ববাসীর সামনে আনা হয়, যখন তিনি বাবার সঙ্গে আইসিবিএম উৎক্ষেপণ তদারকি করেন। পরবর্তী বছরগুলোতে তাকে একাধিকবার দেখা গেছে, বেশিরভাগই সামরিক অনুষ্ঠানে। পিয়ংইয়ংয়ের এক কুচকাওয়াজে তিনি সারি সারি ক্ষেপণাস্ত্রের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
কিম পরিবারের রাজবংশীয় ঐতিহ্য বিবেচনায় অনেকেই ধারণা করছেন, তাকে হয়তো উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তাকে ‘প্রিয়’ ও ‘শ্রদ্ধেয়’ হিসেবে উল্লেখ করা তার বিশেষ মর্যাদার ইঙ্গিত বলে মনে করেন কিছু বিশ্লেষক। তাদের মতে, অল্প বয়স থেকেই সামরিক আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়া নেতৃত্বের জন্য একটি পরিকল্পিত প্রস্তুতির অংশ হতে পারে।
তবে অনেকেই এই ধারণায় সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কিম জং উনের অন্য দুই সন্তানের মধ্য থেকেই উত্তরসূরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। স্টিমসন সেন্টারের কোরিয়া প্রোগ্রামের পরিচালক জেনি টাউনের মতে, জু আয়ের জনসমক্ষে উপস্থিতি কেবল জনসংযোগ কৌশলও হতে পারে। এর মাধ্যমে কিমকে একজন ‘পারিবারিক’ ও ‘পিতাসুলভ’ নেতার চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা চলছে।

