যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরো দুইজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। পাল্টা গুলিবর্ষণে হামলাকারীও নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, নিহত ও আহত কর্মকর্তারা আগের দিন শুরু হওয়া পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত এক তদন্তে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাদের ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ চালানো হয়। গুরুতর আহত দুই কর্মকর্তা স্থানীয় এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
পেনসিলভানিয়া স্টেট পুলিশের কমিশনার ক্রিস্টোফার প্যারিস সাংবাদিকদের জানান, হামলাকারী মারা গেছে। তবে কীভাবে পুরো ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
তিনি বলেন, “পেনসিলভানিয়া স্টেট পুলিশের সব ধরনের সরঞ্জাম এই ঘটনায় কাজে লাগানো হচ্ছে।” ঘটনাস্থলকে এখনও “অত্যন্ত সক্রিয় এলাকা” হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ইয়র্ক কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নি অফিসের সঙ্গে যৌথভাবে একটি বড় টিম গঠন করা হবে এবং ইতোমধ্যে এফবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জোশ শাপিরো নর্থ কডোরাস টাউনশিপে গিয়ে নিহত ও আহত কর্মকর্তাদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
তিনি বলেন, “এটা ইয়র্ক কাউন্টি ও পুরো পেনসিলভানিয়ার জন্য একেবারেই শোকাবহ ও বিধ্বংসী দিন।” ফিলাডেলফিয়া থেকে প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই টাউনশিপে ঘটনাটি ঘটে।
এ নিয়ে চলতি বছরে দ্বিতীয়বার পুলিশের ওপর প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটল। এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় এক হাসপাতালে জিম্মি পরিস্থিতির সময় গুলিবিনিময়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনায়ও বন্দুকধারী মারা যায়।
এদিকে সর্বশেষ ঘটনার পর সতর্কতামূলকভাবে আশপাশের সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয় একটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট শিক্ষার্থী ও কর্মীদের ভবনের ভেতরে থাকতে নির্দেশ দেয়, যদিও পরে বিকেলে সেই আদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পামেলা বন্ডি এ ধরনের পুলিশবিরোধী সহিংসতাকে “সমাজের অভিশাপ” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

