যুক্তরাজ্যের উইন্ডসর ক্যাসলের সেন্ট জর্জেস হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য আয়োজিত এক রাজকীয় নৈশভোজে সকলকে চমকে দিয়েছেন মিডিয়া মোগল রুপার্ট মারডক। বুধবার অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান।
ভোজের আয়োজন ছিল অত্যন্ত ঝকঝকে: ১৩৯টি মোমবাতি, ১ হাজার ৪৫২টি ছুরি-চামচ-তৈজসপত্র এবং প্রায় ১০০ কর্মী খাবার পরিবেশন করেছিলেন। ট্রাম্প হেলিকপ্টারে পৌঁছেছিলেন, তবে ভোজের টেবিলের আয়তন তাঁর হেলিকপ্টারের চেয়ে ২.৭ গুণ বড় ছিল।
মারডকের উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে, কারণ গত জুনে ট্রাম্প তাঁর বিরুদ্ধে একটি হাজার কোটি ডলারের মানহানি মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলার বিষয় ছিল, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ট্রাম্পকে কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের জন্মদিনের বার্তা পাঠানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি চিঠি লেখেননি এবং স্বাক্ষরও করেননি।
নৈশভোজে মারডক ট্রাম্পের কাছ থেকে কিছুটা দূরে বসেছিলেন এবং অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গে আলাপ করেছিলেন। তবে ট্রাম্পের উৎসাহ বা অনুষ্ঠানের উচ্ছ্বাস এতে ক্ষুণ্ণ হয়নি। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্সেস অব ওয়েলস ক্যাথরিন, ট্রাম্পের কন্যা টিফানি ও তাঁর স্বামী। এছাড়া মার্কিন প্রযুক্তি খাতের বিশিষ্ট সিইও যেমন এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং ও ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যানও উপস্থিত ছিলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ট্রাম্পের সফরে প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজপরিবার ও ব্রিটিশ সরকার এবং হোয়াইট হাউস যৌথভাবে অতিথি তালিকা প্রস্তুত ও আসনের বিন্যাস সাজিয়েছিল। ৯৪ বছর বয়সী রুপার্ট মারডক দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ রাজনীতিতে ‘কিংমেকার’ হিসেবে পরিচিত।

