তাইওয়ান কৃষি বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি করছে। কলা গাছের আঁশ ব্যবহার করে টেকসই কাপড় তৈরি করছেন উদ্যোক্তা নেলসন ইয়াং। তার প্রতিষ্ঠান ফার্ম টু ম্যাটেরিয়াল চ্যাংহুয়া অঞ্চলে কলার আঁশ থেকে এমন টেক্সটাইল তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক স্নিকার ব্র্যান্ডগুলোতে সরবরাহ করা যেতে পারে।

ইয়াং জানিয়েছেন, “২০০৮ সালে ইউরোপের কিছু স্নিকার ব্র্যান্ড আমাদের জানিয়েছিল তারা চাইছে একই জমি থেকে খাদ্য ও উপকরণ একসাথে উৎপাদন করা হোক। সেই ধারণা থেকেই আমরা কাজ শুরু করেছি। সব কাঁচামাল এখন কৃষি বা খাদ্য শিল্পের বর্জ্য থেকে আসছে, যা ব্যবহারযোগ্য উপকরণে রূপান্তরিত করা হয়।”

তাইওয়ান একসময় কলা ও আনারসের জন্য পরিচিত ছিল। ১৮৯৫ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে জাপানি শাসনামলে দ্বীপটি এসব ফলের জন্য বিখ্যাত ছিল এবং ১৯৬০-এর দশকে নিজেকে “বানানা কিংডম” হিসেবে প্রচার করেছিল। এখন কলার জায়গায় প্রযুক্তি শিল্প প্রাধান্য পাচ্ছে।

ইয়াংয়ের প্রতিষ্ঠান কলা কাটার পর মাঠে ফেলা গাছের মধ্য অংশ সংগ্রহ করে চেপে ও শুকিয়ে আঁশ তৈরি করছে। এসব আঁশ থেকে কাপড় তৈরি করা সম্ভব। কিছু আঁশ সুতো বানিয়ে মোজা বা ভেগান লেদার তৈরিতেও ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে, কোনো পোশাক ব্র্যান্ড থেকে সরাসরি অর্ডার আসেনি।

তাইওয়ান টেক্সটাইল ফেডারেশনের ইনোভেশন ও সাসটেইনেবল ডিজাইন বিভাগের পরিচালক শার্লট চিয়াং বলেন, “কলার আঁশ তুলার তুলনায় পানির ব্যবহার, শোষণ ক্ষমতা ও সরবরাহ স্থিতিশীলতার দিক থেকে ভালো। টেক্সটাইল শিল্পে বায়োমাস আঁশের ক্ষেত্রে কলার আঁশ তাইওয়ানের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।”

