অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসন থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় দফায় দফায় বোমাবর্ষণ ও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭৯ জন ফিলিস্তিনি। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন পর্যন্ত নিয়ে নিয়েছে অন্তত ৬৫ হাজার ১৪১ জনের জীবন।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুধু একদিনেই হাসপাতালে পৌঁছেছে ৭৯টি মরদেহ, আহত হয়েছেন আরও ২২৮ জন। এ নিয়ে ইসরাইলি আগ্রাসনে মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার ৯২৫ জনে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বহু মরদেহ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে কিংবা রাস্তায় পড়ে আছে। কিন্তু টানা হামলার কারণে উদ্ধারকর্মীরা সেখানে পৌঁছাতে পারছেন না। ফলে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মানবিক সহায়তা সংগ্রহের চেষ্টার সময় ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে আরও ৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৩ জন। মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৭ মে থেকে ত্রাণ নিতে গিয়ে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ২ হাজার ৫১৩ জন নিহত এবং ১৮ হাজার ৪১৪ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
গাজার মানুষ শুধু বোমার আঘাতেই নয়, ক্ষুধা ও অপুষ্টিতেও মরছে প্রতিদিন। গত ২৪ ঘণ্টায় শিশুসহ অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন অনাহারে। এ নিয়ে অক্টোবর ২০২৩ থেকে এখন পর্যন্ত অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩৫ জনে, যাদের মধ্যে ১৪৭ জন শিশু।
পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে ২ মার্চ থেকে, যেদিন থেকে ইসরাইল গাজার সব সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেয়। ফলে ২৪ লাখেরও বেশি মানুষ এখন কার্যত দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি।
খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইপিসি (Integrated Food Security Phase Classification) ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, গাজার উত্তরাঞ্চলে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ তা ছড়িয়ে পড়তে পারে মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের দেইর আল-বালাহ ও খান ইউনিসে। সংস্থাটির এই সতর্কবার্তার পর থেকে শুধু অনাহারেই মারা গেছেন ৩২ শিশুসহ অন্তত ১৫৭ জন।
জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার ইসরাইলকে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে বিষয়টি। তবুও থামেনি আগ্রাসন, থামেনি রক্তপাত।
গাজায় প্রতিদিনের এই হত্যাযজ্ঞ এখন আর কেবল একটি যুদ্ধ নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ অপরাধের ইতিহাস হয়ে উঠছে।

