জার্মানির রাজধানী বার্লিনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া স্প্রি নদী থেকে এটি পাওয়া যায়।
বোমা উদ্ধারের পরপরই ব্যাপক জনবহুল ওই এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলস্বরূপ, প্রায় ১২,৪০০ মানুষকে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে হয়েছে। মানুষজনকে কাছাকাছি অস্থায়ী আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। তবে প্রথমে একটি টাউন হলে আশ্রয় কেন্দ্র খোলায় সেখানে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হলে পরে নিকটস্থ একটি স্কুলকেও অস্থায়ী শিবিরে পরিণত করা হয়।
প্রভাবিত এলাকায় বেশ কয়েকটি দূতাবাসও রয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করতে বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্যে জানা যায়, মধ্য বার্লিনের ফিশারিনজেলে নির্মাণকাজ চলার সময় বোমাটি শনাক্ত হয়। নির্মাণকাজের আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অস্ত্র অনুসন্ধান করা জার্মানিতে সাধারণ নিয়ম হলেও এবার পানির নিচ থেকে পাওয়া বোমাটি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

হ্যাকেনফেল্ড জেলার নিউয়েনডোরফার স্ট্রাসেতে অবস্থিত এই স্থানের আশেপাশের সীমাবদ্ধ এলাকায় একটি হাসপাতাল, একটি নার্সিং হোম, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দুটি ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে। তবে ভিভান্তেস হাসপাতাল গ্রুপের মতে, হাসপাতালটি খালি করা হবে না।
বোমা নিষ্ক্রিয়করণ অভিযানের কারণে রাজধানীতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় স্থানান্তরের ঘটনাগুলির মধ্যে এটি একটি। সম্প্রতি, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৫০০ কিলোগ্রাম ওজনের একটি অবিস্ফোরিত বোমা নিষ্ক্রিয় করার কারণে বার্লিন-মারজাহানে প্রায় ১৫,০০০ মানুষকে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে হয়েছিল।
বোমাটি নদীর চার মিটার গভীরে শ্যাওলায় ঢাকা অবস্থায় ছিল। পুলিশ বলছে, এ কারণে নিষ্ক্রিয় করার কাজ কঠিন হবে। তবে শুক্রবারই কাজ সম্পন্ন করে বাসিন্দাদের বাড়িতে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

