যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপের অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে নির্দেশ দিয়েছেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর তদন্ত চালানোর জন্য।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ডিকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, “আমরা আর দেরি করতে পারি না। এটি আমাদের সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।” তিনি সাবেক এফবিআই প্রধান জেমস কোমি, নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাডাম শিফের বিরুদ্ধে তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে একনায়কতন্ত্রের পথে যাত্রা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সিনেট সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার বলেন, “বিচার বিভাগ সব সময়ই নিরপেক্ষ ছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট এটিকে তার রাজনৈতিক শত্রুদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।”
ট্রাম্পের এ মন্তব্য এসেছে ফেডারেল প্রসিকিউটর এরিক সিবার্টের পদত্যাগের একদিন পর। সিবার্ট লেটিশিয়া জেমসের বিরুদ্ধে বন্ধক জালিয়াতির অভিযোগে মামলা না করার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি সিবার্টকে বরখাস্ত করেছেন কারণ সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা যথাযথভাবে এগোয়নি। এরপর তিনি পাম বন্ডিকে প্রশংসা করে নতুন প্রসিকিউটর লিন্ডসে হ্যালিগানকে নিয়োগ দিতে বলছেন, যাতে তদন্ত দ্রুত এগোতে পারে।
বিবিসি উল্লেখ করে, ১৯৭০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রেসিডেন্টের প্রভাবমুক্ত স্বাধীনতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে ট্রাম্প বারবার এ প্রথা ভেঙেছেন। প্রথম মেয়াদে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসকে বরখাস্ত করেন, এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির মিথ্যা দাবি মানতে অস্বীকার করায় দ্বিতীয় অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার পদত্যাগ করেন।
ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও রাজনৈতিক শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এতে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও আছেন।

