ভারতের উত্তরপ্রদেশের মহোবা জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় এক ছোট্ট ঘরে ৪ হাজার ২৭১ ভোটারের নাম থাকার অভিযোগে ভোলাল চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। জৈতপুর গ্রামপঞ্চায়তের এই ঘটনা দেশটির নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সংবাদমাধ্যম মুসলিম মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১৬ বাই ১৫ ফুটের একটি ভাঙাচোরা ঘর কাগজে ৪,২৭১ জন ভোটারের ঠিকানা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। জৈতপুরের মোট ১৬,০৬৯ ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশই একই ঘরে স্থান পেয়েছে। বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীরা এই ঘটনার ওপর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় কর্মকর্তারা এটি ‘ক্লারিক্যাল ভুল’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। বুথ-স্তরের অফিসাররা (বিএলও) ঘরে ঘরে যাচাই করার সময় তিনটি ওয়ার্ডের নাম ভুলবশত বাড়ি নম্বর ৮০৩-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। সহকারী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আর.পি. বিশ্বকর্মা বলেন, “গ্রামে ঘরের নম্বর সঠিকভাবে ব্যবহার হয় না। তথ্য প্রবেশের সময় অনেক নাম এক ঠিকানায় যোগ হয়ে গেছে। ভোটাররা আসল, শুধু ঠিকানার সঙ্গে গড়মিল হয়েছে।”
শুধু জৈতপুর নয়, পানওয়ারি শহরের এক বাড়িতেও ২৪৩ এবং পাশের বাড়িতে ১৮৫ ভোটারের নাম দেখা গেছে। স্থানীয় কর্মী চৌধুরী রবীন্দ্র কুমার অভিযোগ করেছেন, “যখন একটি ছোট বাড়িতে শত শত ভোটার তালিকাভুক্ত থাকে, তখন এটি কেবল অবহেলা নয়, মানুষের আস্থা নষ্ট করার কারণ।”
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে এক বছরের এআই সহায়তায় চালানো যাচাই অভিযানে মহোবায় এক লাখেরও বেশি সন্দেহজনক বা পুনরাবৃত্ত ভোটার শনাক্ত হয়েছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন এই তালিকাসমূহ সংশোধনের জন্য ২৭২টি গ্রামপঞ্চায়েতে ৪৮৬ জন বুথ কর্মকর্তা এবং ৪৯ জন সুপারভাইজারকে দায়িত্ব দিয়েছে। যাচাই অভিযান ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এবং খসড়া ভোটার তালিকা ৫ ডিসেম্বর প্রকাশ হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মালিক বলেন, “আমরা নিজেরা কষ্টে আছি, এখন নথিতে দেখা যাচ্ছে পুরো গ্রাম আমাদের বাড়িতে থাকে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিবেক ত্রিপাঠী বলেন, “এ ধরনের ভুল উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের দুর্বলতা বাড়ায়।” এছাড়া আম আদমি পার্টির নেতা সঞ্জয় সিং অভিযোগ করেছেন, “এক ঘরে ৪,২৭১ ভোটার গণতন্ত্রে সরাসরি আঘাত।”

