মধ্যপ্রাচ্যে বহুদিনের অচলাবস্থা ভাঙতে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দিল বেলজিয়াম। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বের্ত দি ওয়েভার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক বৈশ্বিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, তাঁর দেশ এখন থেকে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে।
ফ্রান্স ও সৌদি আরবের উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান এবং ফিলিস্তিনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বিশ্বের অধিকাংশ দেশই এই সম্মেলনে অংশ নিলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উপস্থিত ছিল না।
প্রধানমন্ত্রী ওয়েভার বলেন, “ফিলিস্তিনিদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পাওয়া তাদের ন্যায্য অধিকার। ইসরায়েলের নেতারা যখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অস্তিত্বই অস্বীকার করছেন, তখন আমাদের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, বেলজিয়ামের স্বীকৃতি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। দেশটি ফিলিস্তিনে দূতাবাস স্থাপন করবে কেবল তখনই, যখন কিছু শর্ত পূরণ হবে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—হামাসের হাতে আটক সব জিম্মি মুক্তি, অস্ত্র সমর্পণ এবং গাজার প্রশাসন থেকে তাদের সম্পূর্ণ সরে দাঁড়ানো।
বেলজিয়াম আশ্বস্ত করেছে, এই পদক্ষেপ কোনোভাবেই হামাসকে সুবিধা দেবে না। বরং এটি হবে ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি ধাপ।
ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডার মতো দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এবার বেলজিয়ামও তাদের কাতারে যোগ দিল। পাশাপাশি ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশও সম্মেলনে একই ঘোষণা দিয়েছে।
এই স্বীকৃতি কার্যকর হলে ফিলিস্তিনের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

