ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় রাতভর টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে শহরের রেল, মেট্রো ও বিমান চলাচলেও মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দুর্গাপূজার ঠিক আগমুহূর্তে এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে নগরজুড়ে।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিতে পৃথক দুর্ঘটনায় পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। বেনিয়াপুকুর, কালিকাপুর, নেতাজিনগর, গড়িয়াহাট ও ইকবালপুর এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। এলাকাগুলো মূলত কলকাতার মধ্য ও দক্ষিণ অংশে অবস্থিত।
শহরের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল ছিল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। কলকাতা পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, গড়িয়া কামদাহারিতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৩৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। যোধপুর পার্কে ২৮৫ মিমি, কালিঘাটে ২৮০ মিমি, তোপসিয়ায় ২৭৫ মিমি এবং বালিগঞ্জে ২৬৪ মিমি বৃষ্টি নথিভুক্ত হয়েছে।
প্রবল বৃষ্টিতে বহু নিম্নাঞ্চলের ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে, জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহরের রাস্তাঘাটে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। উপকণ্ঠের রেল ও মেট্রো সেবাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে বেশ কিছু স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের ফলেই এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং আরও কয়েকদিন ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কলকাতার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে যে মাসব্যাপী প্রস্তুতি চলছিল, তার ওপরও প্রভাব পড়ছে। প্রচণ্ড বৃষ্টিতে অনেক মণ্ডপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিমানবন্দরে যাতায়াতেও দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের দেরিতে পৌঁছাতে হচ্ছে। ফ্লাইট বিলম্বের আশঙ্কায় এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো ইতোমধ্যেই ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, অবিরাম বৃষ্টির কারণে কলকাতা থেকে আসা-যাওয়ার ফ্লাইটে বিলম্ব হতে পারে। যাত্রীদের ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য জেনে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইন্ডিগোও জানিয়েছে, প্রবল বর্ষণ ও বজ্রঝড়ে বিমানবন্দর যাতায়াত ধীরগতির হতে পারে, তবে মাটিতে যাত্রীদের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
রাতভর এই বর্ষণের জেরে শুধু কলকাতাবাসী নয়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে শহরে আগত বহিরাগত যাত্রীদেরও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।




