সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারআ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে এসে একসময় তাকে বন্দি করা যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ডেভিড পেট্রেয়াসের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের কনকর্ডিয়া বার্ষিক সম্মেলনে এই বিরল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পেট্রেয়াস একসময় আল-শারআকে গ্রেপ্তার করেছিলেন এবং পরে সিআইএ-এর পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আল-শারআ গত বছর সামরিক অভিযান চালিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করেন এবং এই বছরের জানুয়ারি থেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। মুক্তির পর ২০১২ সালে তিনি আসাদবিরোধী লড়াইয়ে আল-নুসরা ফ্রন্ট গঠন করেন। পরে অন্যান্য গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলিত হয়ে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) প্রতিষ্ঠা করেন, যা ২০১৮ সালে মার্কিন সরকার ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করেছিল। তবে এ বছর জুলাইয়ে সিরিয়ায় নরম অবস্থান নেওয়ায় এই তকমা প্রত্যাহার করা হয়।
এই বৈঠকে পেট্রেয়াস আল-শারআকে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে নাটকীয় রাজনৈতিক রূপান্তর হিসেবে আখ্যা দেন। আল-শারআ বলেন, “একসময় আমরা যুদ্ধে ছিলাম, এখন সংলাপে। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থাকা মানুষই শান্তির মূল্য ভালো বোঝে।” তিনি অতীত ভুলগুলো স্বীকার করে বলেন, বর্তমান সময়ের লক্ষ্য সিরিয়ার স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন।
আল-শারআ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং বিদেশি সশস্ত্র বাহিনীর দেশে অবস্থানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন। তিনি ইসরায়েলের হামলা এবং গোলান মালভূমি দখলের বিষয়ে উল্লেখ করেন, তবে পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা আলোচনাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি মার্কিন কংগ্রেসকে ‘সিজার অ্যাক্ট’ প্রত্যাহারের আহ্বানও জানান।

