ইসরাইলের বিমানবাহিনী ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) টানা কয়েক দফা হামলায় কেঁপে উঠেছে পুরো শহর। হুথি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ জন নিহত এবং ১৪২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক মানুষ।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার টার্গেটে ছিল আবাসিক ভবন, সেবামূলক স্থাপনা ও সাধারণ জনগণের ব্যবহৃত অবকাঠামো। তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করছে, তারা হুথিদের জেনারেল স্টাফের সদর দপ্তর, গোয়েন্দা কম্পাউন্ড এবং সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করেছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এক্সে পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, “আমরা সানায় হুথি সন্ত্রাসী সংগঠনের একাধিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী আঘাত হেনেছি।”
এর আগের দিনই হুথিরা ইসরাইলের লোহিত সাগর উপকূলীয় শহর এলাতের একটি হোটেলে ড্রোন হামলার দাবি করেছিল। সেই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবেই ইসরাইলের এই পাল্টা অভিযান বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে হুথি নিয়ন্ত্রিত আল মাসিরাহ টিভি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, বিমান হামলায় সানার দাহবান বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আশপাশের বেশ কিছু আবাসিক এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শহরের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনা আরও শিউরে ওঠার মতো। এক প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে বলেন, “এটা এক দুঃস্বপ্নের মতো ছিল। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকা ধুলোয় ঢেকে যায়। আমি নিজের চোখে রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় ডজনখানেক নারী-শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেছি।”
সানার আকাশে এখনো আতঙ্ক আর ধোঁয়ার ছাপ ভাসছে। যুদ্ধের প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার এই খেলা ক্রমেই সাধারণ মানুষের জীবনে পরিণত হচ্ছে মৃত্যুর ফাঁদে।

